তিলোত্তমার বুকেই এবার দুবাইয়ের ছোঁয়া। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা (Burj Khalifa) কিংবা নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারের (Times Square) ডিজিটাল স্ক্রিনে যেভাবে ভেসে ওঠে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বা বিশেষ বার্তা, ঠিক সেই কায়দাতেই এবার সেজে উঠতে চলেছে কলকাতার প্রধান ল্যান্ডমার্ক রবীন্দ্র সেতু বা হাওড়া ব্রিজ (Howrah Bridge)। এবার থেকে সাধারণ মানুষ চাইলেই তাঁদের প্রিয়জনকে সারপ্রাইজ দিতে ব্যবহার করতে পারবেন এই ঐতিহ্যবাহী সেতুকে।
আরও পড়ুন: টিজারেই ‘হুঙ্কার’! ওটিটিতে আসছে টানটান কোর্টরুম ড্রামা
কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের (SMP Kolkata) উদ্যোগে প্রায় ২২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে হাওড়া ব্রিজে বসানো হয়েছে এক নতুন লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম। এই বিশেষ প্রকল্পে সেতুর বিভিন্ন অংশে মোট ৩,৮২৫টি আধুনিক লাইট লাগানো হয়েছে। জাতীয় উৎসব যেমন— দুর্গাপুজো, দীপাবলি, স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসে এমনিতেই থিম অনুযায়ী বদলে যাবে এই ব্রিজের আলোর রঙ ও নকশা। তবে এই প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে ব্যক্তিগত স্তরে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানোর সুযোগ।
আরও পড়ুন: নভেম্বরে দিল্লিতে তারেক! বদলাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমীকরণ
কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা জীবনের অন্য কোনও বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে সাধারণ মানুষ এই আলোকসজ্জা বুক করতে পারবেন। বুকিং সফল হলে নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে রামধনু আলোর রঙে ও ছন্দে হাওড়া ব্রিজের গায়ে ভেসে উঠবে সেই প্রিয় মানুষের নাম এবং আপনার পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা। সঙ্গে থাকবে সুসংগত মিউজিক বা সুরের মেলবন্ধন, যা গঙ্গার ঘাট বা দূর থেকে সাধারণ মানুষ উপভোগ করতে পারবেন। জনসাধারণের জন্য এই সম্পূর্ণ লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো লাইভ দেখার জন্য একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপও আনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কৌতুক! ফের বিতর্কে জড়ালেন রাহুল
শহরের বুকে এই আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা পাওয়ার জন্য বুকিং প্রক্রিয়া কেমন হবে বা এর জন্য পকেট থেকে কত টাকা খসাতে হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রেখেই এই পরিষেবার বুকিং প্রক্রিয়া ও খরচের বিষয়টি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত গাইডলাইন বা নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
কলকাতার অন্যতম সেরা আবেগ এই হাওড়া ব্রিজ। পুজো ও উৎসবের মরশুমের ঠিক আগেই গঙ্গাবক্ষে এই নজিরবিহীন আলো ও সুরের যুগলবন্দি যে কলকাতার পর্যটনকে এক লাফে অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
















