রেজিনগর (Rejinagar) বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে বড় ধাক্কা আম জনতা উন্নয়ন পার্টিতে। দলের একাধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। রবিবার দুপুরে তিনি জানান, দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ্যা মামলা’করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। কর্মীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আপাতত সরাসরি প্রচারে থাকছেন না তিনি। দলের প্রার্থী তথা তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ রবিনও প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান হুমায়ুন।

আরও পড়ুন: কুর্মি আন্দোলনের সব মামলা প্রত্যাহার! করম পরবের মঞ্চে বড় প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর

 উপনির্বাচনের আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একাধিক নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেল থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দলের চার পদাধিকারী এবং এক নির্দল প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। প্রথমে নওদা থানার (Naoda Police Station)পুলিশ রেজিনগরের নির্দল প্রার্থী তথা নওদা ব্লক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তাঁকে রবিবার বহরমপুর আদালতে তোলা হয় এবং পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। এরপর রাতভর অভিযান চালায় রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ (Santipur Police Station)। রেজিনগর থেকে মঞ্জুর রহমান ওরফে লেবু, হক মল্লিক এবং আব্দুল আলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে শক্তিপুর থানার পুলিশ মিঞাগ্রাম এলাকা থেকে মহম্মদ নাসিম শেখকে গ্রেফতার করে। নাসিমকে হুমায়ুন কবীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করা হয়েছে।

গ্রেফতারির পরই পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতাদের পরিকল্পিত ভাবে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। মঞ্জুর রহমান, হক মল্লিক এবং আব্দুল আলিমের দলীয় দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। নাসিম শেখের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, নাসিম তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয় এবং প্রাক্তন সেনাকর্মী।  বর্তমানে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। যদিও পুলিশের তরফে নাসিমের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, শক্তিপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে হুমকি ও ঘৃণাভাষণের অভিযোগ ওঠা একটি সভায় অর্থ জোগানের সঙ্গে নাসিমের যোগ ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি।

এদিকে হুমায়ুনের অভিযোগ, নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ একপেশে ভূমিকা নিচ্ছে। রেজিনগর, শক্তিপুর, বেলডাঙা এবং হরিহরপাড়া থানার আধিকারিকদের বদলি না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। অন্যদিকে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন হুমায়ুনের অভিযোগ খারিজ করে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং অডিয়ো সংক্রান্ত বিষয় সামনে রেখে পুলিশ নিজের কাজ করছে। এই টানাপড়েনের মধ্যেই রবিবার হুমায়ুন জানিয়ে দেন, দলের কর্মীদের স্বার্থে তিনি এবং তাঁর ছেলে আপাতত সরাসরি নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আজ থেকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রচার মূলত সমাজমাধ্যমের মাধ্যমেই চালানো হবে।