এক সময় কুর্মি (Kurmi) আন্দোলনের আঁচে উত্তাল হয়েছিল জঙ্গলমহল। রেল ও সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে অশান্তির ছবি দেখেছিল জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কুর্মি সমাজের বহু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল একাধিক মামলা, হয়েছিল গ্রেফতারিও। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এ বার সেই মামলাগুলিই প্রত্যাহারের পথে হাঁটবে সরকার। রবিবার পুরুলিয়ায় করম পরবের মঞ্চ থেকে এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

এদিন করম পরবের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের আমলে কুর্মি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত মামলা দায়ের হয়েছিল, সেগুলি প্রত্যাহার করা হবে। বিজেপির সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই মামলাগুলি প্রত্যাহার করা হবে। কুর্মি সমাজকে ঘিরে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জঙ্গলমহলের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অধিকার রক্ষার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, জঙ্গলমহলের মানুষ তাঁদের যে কোনও দাবি বা সমস্যার কথা সরকারের কাছে সরাসরি জানাতে পারেন। সেই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব সরকারের। 

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জঙ্গলমহলের, বিশেষ করে কুর্মি সমাজের বিধায়কদের সচিবালয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে ভাষা, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কুর্মি সমাজের প্রতি সরকারের সংবেদনশীলতার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী করম পরবের সময় উচ্চমাধ্যমিকের সেমিস্টার পরীক্ষা পড়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, করম পরবের সঙ্গে পরীক্ষার সময়ের বিষয়টি বিবেচনা করে রাজ্য সরকার পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন করেছে।

উল্লেখ্য, জাতিসত্তার স্বীকৃতি, কুড়মালি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং অন্যান্য দাবিকে সামনে রেখে জঙ্গলমহলে ধারাবাহিক আন্দোলন করেছে কুর্মি সমাজের বিভিন্ন সংগঠন। একাধিকবার রেল ও সড়ক অবরোধের জেরে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম-সহ পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই আন্দোলন ঘিরেই দায়ের হয়েছিল একাধিক মামলা।

অতীতের সেই আন্দোলন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতেও কম জলঘোলা হয়নি। কুর্মি নেতা রাজেশ মাহাতোর গ্রেফতারি, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে ঘেরাও ও তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার অভিযোগের মতো একাধিক ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

একই সঙ্গে কুর্মি সমাজের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নেও এদিন একাধিক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে করম পরবের মঞ্চ থেকে। ফলে দীর্ঘ আন্দোলনের পরে করম পরবের মঞ্চ থেকেই কুর্মি সমাজের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল।