রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ভুয়ো চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করে এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে চিঠি দিল বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠন। অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোমের তরফে অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকে ভুয়ো চিকিৎসক নিয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে কারা রয়েছেন তা খুঁজে বের করতে এবার সিআইডি হস্তক্ষেপের দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
রাজ্যে পালাবদলের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথম থেকেই বাংলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের হাল ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন। ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে আয়ুষ্মান কার্ড। পরিষেবা পাচ্ছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। কিন্তু তার মাঝেই দুর্নীতিতে যে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তা কার্যকর করা হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে। এই আবহে এবার স্বাস্থ্যসাথী দুর্নীতি।ও ভুয়ো চিকিৎসক কাণ্ডে সিআইডি তদন্তের দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেওয়া অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোমের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জানা গিয়েছে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার তিন ভুয়ো চিকিৎসককে চিহ্নিত করে তাঁদের বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। অভিযুক্ত চিকিৎসকরা বিহারের সার্টিফিকেট দেখালেও প্রতিবেশী রাজ্য থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এনারা কেউই এখানকার মেডিক্যাল কাউন্সিলের নথিভুক্ত নন।
এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, "এই মুহূর্তে যে ভয়াবহ ছবিটা বেরিয়ে আসছে তার জল অনেকদূর পর্যন্ত গড়াবে। এই যে দুর্নীতি ঘটেছে বা এখনও ঘটছে হয়তো সেই সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ তথ্য পাইনি। তবে যেটাই হোক তা হিমশৈলীর চূড়া মাত্র। এর মধ্যে অনেক দিক আছে যেগুলো আমাদের একের পর এক দেখতে হবে।এই ভুয়ো চিকিৎসকরা বিহার থেকে দলে দলে এলেন, তারপর ঠিকানা দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের, ডিগ্রি দেখাচ্ছেন বিহারের। এটা একটা বিরাট চক্র। কেউই ডাক্তার নন। বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিল বলে দিচ্ছে এনারা কেউ সে রাজ্যে নথিভুক্ত নন।" এরপরই পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
















