সামনে ছাত্র-যুবদের ভিড়। উচ্ছ্বাসে সরগরম ইন্দোরের সভাস্থল। পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সেই মঞ্চই হয়ে উঠল রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র। কংগ্রেসের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’(Chhatron Ki Goonj) অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)মিমিক্রি করলেন কমেডিয়ান পুলকিত মণি। মোদির কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি থেকে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের ধরন—সবই উঠে এল সেই অভিনয়ে। এমনকী প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত মাকে নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। আর সেই ঘটনাতেই বিরোধী দলনেতা রাহুলকে নিশানা করেছে গেরুয়া শিবির।

আরও পড়ুন: পদ্মার ইলিশ রফতানি, আবার গুজরাতের ইলিশ আমদানি! বাংলাদেশের বাজারে কেন এই উলটপুরাণ?

১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোরে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে রাহুলের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন কমেডিয়ান পুলকিত মণি।  সেখানে কংগ্রেস নেতা মঞ্চে থাকা অবস্থাতেই স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান পুলকিত মণি প্রধানমন্ত্রীকে  নিয়ে মিমিক্রি করেন। বিদেশনীতি নিয়ে ব্যঙ্গ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি নকল করেন তিনি। এক পর্যায়ে রাহুলকে জড়িয়েও ধরতে দেখা যায় তাঁকে। মোদির হাসি, কথা বলার ধরন এবং বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তার ধরন নিয়েও কৌতুক করেন ওই কমেডিয়ান। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বয়স্ক মানুষদের জন্য চেয়ার এগিয়ে দেওয়ার যে ধরনের উদ্যোগ নেন, সেই বিষয়টিও অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যঙ্গ করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, শুধু প্রধানমন্ত্রীকেই নয়, তাঁর প্রয়াত মাকেও ওই পর্বে কটাক্ষের নিশানা করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি যখন মঞ্চে চলছে, তখন রাহুল গান্ধী সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁকে হাসতেও দেখা যায় বলে বিজেপির অভিযোগ। এরপরই ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিজেপি নেতারা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে আক্রমণ শুরু করেন।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন রবিবার এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এক বয়স্ক মহিলাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও উপহাসের সময় রাহুল গান্ধী মঞ্চে ছিলেন এবং হাসছিলেন। কেশবনের দাবি, এই ধরনের আচরণকে কোনও শালীন মানুষ হাস্যরস হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এমন ‘অসংস্কৃতি’র কারণেই তরুণদের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীও সামাজিক মাধ্যমে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের সঙ্গে মতবিনিময়ের একটি মঞ্চকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত মাকে নিয়ে ব্যঙ্গ ও অপমান করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিও এই ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, একজন মাকে রাজনৈতিক আক্রমণের বিষয় করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, বিজেপির আক্রমণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের বিষয়টিও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করা নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। এই বক্তব্যের সময়ও মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর কথাবলার ধরন নকল করার প্রসঙ্গ উঠে আসে। তবে বিতর্কের বাইরে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে মূলত ছাত্র-যুবদের নানা সমস্যা নিয়েই বক্তব্য রাখেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের দাবি, ইন্দোরের অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে রাহুলের অভিযোগ, দেশে পড়ুয়া তৈরির বদলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মানসিকতা তৈরির দিকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।