শিক্ষা মহলের সঙ্গে মাদক কারবারের যোগ নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে কেরলম (Kerala)। কোঝিকোড়ের ভদকরায় (Vadakara, Kozhikode) তিন শিক্ষিকার গ্রেফতারির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এবার মালাপ্পুরমে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক কলেজ শিক্ষক। ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে এমডিএমএ ছড়ানোর অভিযোগে সোহেল পেরিঙ্গোদান নামে ওই শিক্ষক-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালাপ্পুরমের নিলম্বুর (Malappuram Nilambu) ও সংলগ্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের পথ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।

পুলিশের নজর এখন ধৃতদের বাইরে থাকা সম্ভাব্য সহযোগীদের দিকে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিবেক বিজয়ন ও রীনা টিএনের মাধ্যমে পড়ুয়াদের কাছে মাদক পৌঁছত। তাঁদের সঙ্গে কলেজ শিক্ষকের কী ধরনের যোগাযোগ ছিল এবং এই দেওয়ার ব্যবস্থায় আর কারা যুক্ত, তা জানার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদেরই কেন এই চক্রের নিশানা করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের অনুমান, চারজনের গ্রেফতারিতেই তদন্ত শেষ হচ্ছে না; মাদকের উৎস এবং সরবরাহের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলতে পারে।

ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সুব্রহ্মণ্যনকে আটক করে তল্লাশি চালানোর সময় তাঁর কাছ থেকে ০.৪ গ্রাম এমডিএমএ এবং ০.৫ গ্রাম গাঁজা মেলে। সেই সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকে সোহেল-সহ বাকিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে কম হলেও এর পিছনে বড় কারবার রয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সোহেল পেরিঙ্গোদান, রীনা টিএন, বিবেক বিজয়ন এবং সুব্রহ্মণ্যন।

কেরলমের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এই অভিযোগ আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। ভদকরায় পেরাম্ব্রা ব্লক রিসোর্স সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত কেসি কীর্তনা, কে কাব্য ও ভিপি নীষ্মাকে মাদক মামলায় গ্রেফতার করেছিল ড্যানসাফ ও কোঝিকোড় গ্রামীণ পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ ছিল, কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা লেনদেন এবং ‘ডেড-ড্রপ’ পদ্ধতিতে মাদক সরবরাহ চলত। পরে তিনজনকেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মালাপ্পুরমে কলেজ শিক্ষক গ্রেফতার হওয়ায় শিক্ষা ক্ষেত্রকে ঘিরে মাদকচক্রের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে তদন্ত আরও গুরুত্ব পেয়েছে।