দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Delhi University) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (DUSU Polls) ফের দাপট অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP)। চারটি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে তিনটিতেই জয় পেয়েছে এবিভিপি। সভাপতি, সচিব এবং যুগ্ম সচিব পদ গিয়েছে তাদের দখলে। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিন (Deepanshu Shokeen)। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০ দফা গণনা শেষে ফল ঘোষিত হয়। 

আরও পড়ুন: স্ক্রিনের যুগে কলমের জয়! ব্রেন সচল রাখতে টাইপিং নয়, দরকার হাতে লেখা বলছে গবেষণা


সভাপতি পদে এবিভিপির যশ দাবাস ২৪ হাজার ৫৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনএসইউআইয়ের বিজয় শংকর মীনা পেয়েছেন ২২ হাজার ৫২৩ ভোট। অর্থাৎ ২ হাজার ৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন যশ। বাম জোটের প্রার্থী অনন্যা রাতুরি পান ৫ হাজার ৩৭৭ ভোট। সহ-সভাপতি পদে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় এসেছে নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিনের। তিনি পেয়েছেন ৩০ হাজার ৬১৫ ভোট। এবিভিপির ইশু মৌর্য পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯১০ এবং এনএসইউআইয়ের বীর চতরথ পেয়েছেন ৪ হাজার ৩১৩ ভোট। ফলে এই পদে দুই প্রধান ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীদের পিছনে ফেলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন দীপাংশু। 

সচিব পদেও জয় পেয়েছেন এবিভিপির রিয়া ছাওড়ি। তিনি পেয়েছেন ২১ হাজার ৬৫০ ভোট। এনএসইউআইয়ের নম্রতা চৌধুরী পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৬৯ ভোট। অন্যদিকে যুগ্ম সচিব পদে এবিভিপির লক্ষ্য রাজ সিং ১৬ হাজার ৬৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এনএসইউআইয়ের গোপাল চৌধুরী পেয়েছেন ১৫ হাজার ১০৬ এবং নির্দল প্রার্থী বিশাল যাদব পেয়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৮ ভোট। 
এবারের নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৪০.৪৬ শতাংশ। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। চারটি কেন্দ্রীয় পদের জন্য মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের পর ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে উত্তর ক্যাম্পাসের বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া স্টেডিয়ামের বহুমুখী প্রেক্ষাগৃহে শুরু হয় ভোটগণনা। 

এবারের লড়াইয়ে সভাপতি পদে যশ দাবাস ও বিজয় শংকর মীনার মধ্যে একাধিক দফায় ব্যবধান ওঠানামা করেছে। গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়ে থেকেছে দুই পক্ষই। শেষ পর্যন্ত ২০ দফা গণনার পর ২ হাজারের সামান্য বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান যশ। 

তবে ফলাফলের অন্যতম আলোচিত দিক দীপাংশু শোকিনের জয়। নির্দল প্রার্থী হিসেবে সহ-সভাপতি পদে জয় পাওয়ায় তিনি এবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুখ হয়ে উঠেছেন। গণনার শুরু থেকেই এই পদে তিনি বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি ভোট নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। এবারের ভোটে প্রচার এবং গণনার সময় নিরাপত্তাও ছিল কড়া। নির্বাচনী প্রচারে হিংসা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগের পর দিল্লি হাইকোর্ট ফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিল, ঢাকঢোল এবং অন্যান্য বিজয় উদ্‌যাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশকে সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথাও বলা হয়।