জাতিগত সংরক্ষণের ভিত্তিতে একগুচ্ছ দাবি নিয়ে উত্তরপ্রদেশের রাস্তায় নেমেছে উচ্চবর্ণের বেশ কয়েকটি সম্প্রদায়। বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির আগে চাপ বাড়ছে যোগী সরকারের। ২০১৭ সালের শুরুতেই আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath State) রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। জেন জি আন্দোলনের পর থেকেই দেশে বিজেপি বিরোধী হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় একাধিক জাতিগত সংগঠনগুলি মনে করছে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকারকে চাপ দিয়ে নিজেদের দাবি আদায় করে নেওয়ার এটাই মোক্ষম সময়।
রাজনৈতিক মহল বলছে ভোটের মুখে জাতিগত ইস্যুতে পথে নামা নতুন কিছু নয়। তবে এবারের হাতিয়ার তরুণ সমাজের দাবি। এই রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য যোগী সরকার খুব একটা তৈরি ছিলেন না বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণ-সহ উচ্চ বর্ণের একাধিক সম্প্রদায় যারা এতদিন বিজেপির অনুগত ভোটার বলে পরিচিত ছিল তারা ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে বঞ্চনা অবহেলার অভিযোগ করেছেন। স্বর্ণ সমাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তি ও চাকরিতে সংরক্ষণ নীতি পুনরায় বিবেচনার দাবিতে গত ২০ দিন ধরে বেনারসের গঙ্গার ঘাটে ধর্না চালিয়ে যাওয়ার পর, আগামী রবিবার (২০ অক্টোবর) বড় জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে।। সব মিলিয়ে জেরবার যোগী সরকার।
ব্রাহ্মণ সমাজের নেতারা বলছেন সংরক্ষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়মে যে সাম্প্রতিক পরিবর্তন করা হয়েছে তা সরকারকে প্রত্যাহার করতে হবে। একই ইস্যুতে গ্রেটার নয়ডার উচ্চবর্ণের সদস্যরাও একটি মিছিল করেছেন। অন্যদিকে গিহার সম্প্রদায়ের তাদের আগের জাতিগত মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মোরাদাবাদে ধর্না কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অখিলেশ সরকারের আমলে জাতিগত শংসাপত্র পাওয়া গেলেও যোগী সরকার এই নথি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁরা চাইছেন 'গিহার' হিসেবে স্বীকৃতি পেতে। এর সঙ্গে আবার পূর্ব উত্তর প্রদেশের তফশিলি জাতি গোষ্ঠীর পাসি সম্প্রদায় রাজা বিজলি পাসির মূর্তি স্থাপনের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে। অখিল ভারতীয় কাহার মহাসভা , অখিল ভারতীয় গোন্দ মহাসভা তফশিলি জাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে সরকারের উপর আন্দোলনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছে। এই সবকিছু নিয়ে রীতিমতো নাজেহাল বিজেপি সরকার। বারাণসী থেকে চিত্রকূট পর্যন্ত যেভাবে উচ্চবর্ণ ও অনগ্রসর গোষ্ঠীগুলির আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ছে তাতে ক্রমাগত চিন্তা বাড়ছে আদিত্যনাথের। ভোটের প্রস্তুতির মাঝে আদৌ তিনি সবকিছু সামাল দিতে পারেন কিনা এখন সেটাই দেখার।
















