ডিজিটাল লেনদেনে (Digital Payment) নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তার আঁচ পড়তে শুরু করেছে বাজারে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকার বেশি নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ইউপিআই (UPI) লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) চালু হচ্ছে। সাধারণ ক্ষেত্রে এই মাসুলের হার ০.৪ শতাংশ। তবে নিয়ম অনুযায়ী এই খরচ ব্যবসায়ীর উপরেই থাকার কথা, ক্রেতার কাছ থেকে আলাদা করে নেওয়ার কথা নয়।

আরও পড়ুন: খুলছে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন, কবে মিলবে পরিষেবা!

এই নতুন নিয়ম ঘিরেই ইতিমধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh)গাজিয়াবাদে তার প্রভাবও চোখে পড়েছে। শহরের বেশ কিছু দোকানের সামনে ইতিমধ্যেই পোস্টার দিয়ে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের ইউপিআই পেমেন্ট নেওয়া হবে না। বদলে নগদে বিল মেটানোর আবেদন জানানো হচ্ছে ক্রেতাদের। কোথাও আবার ইউপিআইয়ে টাকা দিলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। যদিও নতুন ব্যবস্থায় এই অতিরিক্ত খরচ ক্রেতার উপর চাপানোর অনুমতি নেই।

গাজিয়াবাদের ব্যবসায়ীদের যুক্তি, তাঁদের মতো ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার বেশি লেনদেন অস্বাভাবিক নয়। ফলে প্রতিটি বড় লেনদেনে এমডিআর দিতে হলে তা ব্যবসার খরচ বাড়াবে। সেই বাড়তি খরচ তাঁরা নিজেরা বহন করবেন, নাকি নগদ লেনদেনের দিকে ক্রেতাদের ফেরাবেন—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সেইসঙ্গে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, তাদের দোকানে অধিকাংশ পণ্যের দামই ২ হাজার টাকার বেশি। তাই তারা ক্রেতাদের নগদে টাকা মেটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে এই নিয়ম সব ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী লেনদেনের ক্ষেত্রে এমডিআর থাকছে না। পরিবার বা বন্ধুদের মধ্যে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি ইউপিআই লেনদেনও বিনামূল্যেই থাকবে। ছোট ব্যবসায়ীদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকেও এমডিআর থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জ্বালানি, রেল, টেলিকম ও বিমার মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার বেশি লেনদেনের জন্য শতাংশের বদলে ৫ টাকা হারে এমডিআর নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পেট্রল পাম্পগুলিতে। মধ্যপ্রদেশের পেট্রল পাম্প ব্যবসায়ীদের সংগঠন জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকার বেশি জ্বালানির বিলের ক্ষেত্রে ইউপিআই গ্রহণ বন্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে। তাদের দাবি, নতুন এমডিআরের খরচ তাঁদের ব্যবসার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে এবং জ্বালানি বিক্রিতে তাঁদের কমিশন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় সেই খরচ বহন করা কঠিন। এদিকে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, নতুন এমডিআর গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করার কথা নয়। ব্যাঙ্কগুলিকেও বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা যাতে এই খরচ সরাসরি ক্রেতাদের উপর চাপিয়ে না দেন, তা নিশ্চিত করতে নজর রাখতে।