কর্মরত পুলিশ আধিকারিককে গুলি করে খুন। শুক্রবার ভোরে আততায়ীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে সহকারী উপ-পরিদর্শক (ASI) হরজিৎ সিং (Harjit Singh)। টহলদারি শেষে বাড়ি ফেরার সময় বাইকে আসা দুই দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে পঞ্জাব পুলিশ (Punjab Police) সূত্রে খবর। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন উঠেছে।
হরজিৎ তারণ তারণ জেলার বাসিন্দা। তিনি অমৃতসরের গেট হাকিমা থানার অধীনে ASI পদে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাত প্রায় ২টো নাগাদ ভগতানওয়ালা শস্যবাজারের ২ নম্বর গেটের কাছে হামলার মুখে পড়েন তিনি। বাইকে আসা দুই আততায়ী খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। একাধিক গুলিতে গুরুতর জখম হন হরজিৎ। দ্রুত তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর হামলাকারীদের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান নামে একটি জঙ্গি সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর। তবে পঞ্জাব পুলিশ এখনও ঘটনাটিকে জঙ্গি হামলা বলে মানতে নারাজ। তদন্তের অগ্রগতির পরই হামলার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
হরজিৎ সিংহের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান (Chief Minister Bhagwant Mann)। নিহত পুলিশকর্মীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ১ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের বিমা বাবদ আরও ১ কোটি টাকা পরিবারটি পাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্জাব পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল গৌরব যাদব জানিয়েছেন, কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন হরজিৎ। তাঁকে পূর্ণ পুলিশ সম্মান দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে পঞ্জাবে। বিজেপি এবং অকালি দল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ তরুণ চুঘের অভিযোগ, রাজ্যে মাদক কারবার, তোলাবাজি এবং দুষ্কৃতীদের দাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অতীতে পুলিশ পরিকাঠামোয় রকেট ও গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন চুঘ।
অকালি দলের নেতা বিক্রম সিংহ মজীঠিয়াও পরপর পুলিশকর্মীদের উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, চলতি বছরে পঞ্জাবে একাধিক পুলিশকর্মী আততায়ীদের নিশানায় এসেছেন। ফেব্রুয়ারিতে আধিয়ান পুলিশ ফাঁড়িতে এএসআই গুরনাম সিংহ এবং হোমগার্ড কর্মী অশোক কুমার নিহত হন। মে মাসে মজীঠিয়ার কাছে এএসআই জোগা সিংহ খুন হন। ৩০ অগস্ট অমৃতসরে আততায়ীদের হামলায় এএসআই পবন কুমারের মৃত্যু হয়। ১১ সেপ্টেম্বর ভল্লা পিন্ড এলাকায় আরও এক এএসআইকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তার কয়েক দিনের মধ্যেই ফের অমৃতসরে এএসআইকে গুলি করে খুনের ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের শুরু বিতর্ক।
















