ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে বেহাল নারী নিরাপত্তা (Women Security)। দেশের রাজধানীতে আবারও নৃশংস ধর্ষণ কাণ্ড। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের একাধিক আশ্বাসের মাঝেই রাজধানীর স্বরূপনগরে সামনে এল এমন এক ঘটনা, যা সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। একটি নাবালিকাকে গণধর্ষণ (Mass Rape) করে খুনের অভিযোগ, তার পর দেহ ফেলে রাখা হল খোলা মাঠে। দু’দিন পর স্থানীয়দের নজরে এল সেই দেহ। প্রশ্ন উঠছে—বিজেপি শাসিত রাজধানীতে (Delhi) যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে নিরাপত্তা কোথায়?

আরও পড়ুন: সিটংয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে ভয়াবহ বিপত্তি, বারবিকিউ-র অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে গেলেন নববধূ

১৩ সেপ্টেম্বর সকালে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির স্বরূপনগরের কুশাক রোডের কাছে একটি মাঠে নাবালিকার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। দেহটি এতটাই পচে গিয়েছিল যে প্রথমে মৃতের পরিচয়, এমনকি লিঙ্গও নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয়দের নজরে আসে, দেহের উপর রাস্তার কুকুর ঘোরাফেরা করছে। পরে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, মৃতা এক নাবালিকা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

 

পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় নাবালিকাটি পরিচিত এক কিশোরের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। পরে আরও কয়েক জন সেখানে যোগ দেয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, একটি টেম্পোর ভিতরেই তার উপর যৌন নির্যাতন করা হয়। এর পর তাকে একাধিক বার ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। দেহটি পরে স্বরূপনগরের একটি মাঠে ফেলে দেওয়া হয়। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীর সন্ধান না মেলায় আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজই হয়ে ওঠে তদন্তের অন্যতম প্রধান সূত্র। ৫০টিরও বেশি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ একটি টেম্পোর গতিবিধি চিহ্নিত করে। প্রথম দিকে অন্ধকারের কারণে গাড়িটির নম্বর স্পষ্ট দেখা যায়নি। পরে বিভিন্ন জায়গার ক্যামেরার ফুটেজ মিলিয়ে টেম্পোটির গতিপথ অনুসরণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেটির সন্ধান মেলে স্বরূপনগরের খাদ্দা কলোনিতে।

 

টেম্পোর চালককে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় মোট চার জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক জনের বয়স ১৯ বছর এবং বাকি তিন জন নাবালক। তাঁদের কাছ থেকে দুটি ছুরি এবং ঘটনার সময় পরা পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযুক্তদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং ফরেন্সিক প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের সামনে এসেছে। নাবালিকাটি নিখোঁজ থাকার পরও পরিবারের তরফে থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশকে পরিবার জানিয়েছে, মেয়েটি এর আগেও কয়েক দিনের জন্য বাড়ির বাইরে থাকত এবং পরে ফিরে আসত। ফলে এবারও পরিবারের সদস্যেরা প্রথমে কোনও বড় বিপদের আশঙ্কা করেননি।

 

এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে ঠিকই। কিন্তু তার পরেও রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে যে শহর দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র, যে দিল্লিতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, সেখানে এক নাবালিকা কীভাবে এমন অপরাধের শিকার হল—সেই প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক মহল।