প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর দেদার বিকোবে না কড়া ওষুধ। ওষুধের কালোবাজারি এবং যত্রতত্র প্রেসক্রিপশন-বিহীন অ্যান্টিবায়োটিক বা নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বিক্রি রুখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এবার থেকে আপনার পাড়ার মোড়ের সাধারণ ওষুধের দোকান বা রিটেল ফার্মেসিতেও সিসি (CC) ক্যামেরা লাগানো বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে এই ক্যামেরার নজরদারিতেই।
আরও পড়ুন: রোজভ্যালি আমানতকারীদের জন্যে সুখবর: পুজোর আগেই টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জারি করা এক খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫ (Drugs Rules, 1945)-এ এই বড়সড় সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। কী বলা হয়েছে কেন্দ্রের নতুন খসড়া প্রস্তাবে? গত ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত খসড়া নিয়ম অনুযায়ী, পাইকারি বা হোলসেল ড্রাগ ডিলারদের বাদ দিয়ে সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত খুচরো ওষুধের দোকানে সিসি ক্যামেরায় নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রির প্রতিটি লেনদেন ক্যামেরার আওতায় থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, নিয়মভঙ্গ বা কোনও অভিযোগের তদন্তের সুবিধার্থে এই সিসিটিভি ফুটেজ অন্তত ৯০ দিন বা ৩ মাস পর্যন্ত যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে দোকান মালিকদের।
আরও পড়ুন: বচ্চন পরিবারে আবার ঝোড়ো হাওয়া! হৃতিকের প্রেমে মজেছেন শ্বেতা? জল্পনা বলিউডে
সরকারি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মূলত তিনটি প্রধান কারণে এই অভিনব ভাবনা কেন্দ্রের:
১) প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা। দেশের বহু ফার্মেসিতেই ‘শিডিউল এইচ’, ‘এইচ১’ এবং ‘এক্স’ (Schedule H, H1, X) ক্যাটাগরির কড়া ওষুধ, ঘুমের ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওভার-দ্য-কাউন্টার বিক্রি হয়ে যায়। ক্যামেরার নজরদারি থাকলে এই বেনিয়ম অনেকটাই রোখা সম্ভব হবে।
২) অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধ করতে হবে। যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) তৈরি হচ্ছে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সিসিটিভির মাধ্যমে এই বিক্রির একটি ভিজ্যুয়াল রেকর্ড বা প্রমাণ থাকবে।
৩) অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের কড়া ওষুধ বা কফ সিরাপ ভুলবশত শিশুদের হাতেও চলে যায়। এই নতুন নিয়মের ফলে ওষুধের সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা এবং বিক্রেতাদের জবাবদিহিতা অনেকটাই বাড়বে।
আরও পড়ুন: অভিযোগকারী কি ঘোঁত ঘোঁত করে? বারাসত থানায় হাজিরায় চূড়ান্ত কটাক্ষ কুণালের
কবে থেকে লাগু হচ্ছে এই নিয়ম? ড্রাগস কনসালটেটিভ কমিটি (DCC) এবং ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের (DTAB) অনুমোদনের পর এই প্রস্তাবটি আনা হয়েছে। তবে এটি এখনই চূড়ান্ত নিয়ম নয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক আগামী ৩০ দিনের জন্য এই বিষয়ে সাধারণ মানুষ, ওষুধের ব্যবসায়ী ও অংশীদারদের কাছ থেকে মতামত, আপত্তি বা পরামর্শ আহ্বান করেছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে এবং প্রয়োজনে কিছু সংশোধন করে সরকার শীঘ্রই এর চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে। স্বভাবতই, এই নিয়ম চূড়ান্ত রূপ পেলে সাধারণ ক্রেতাদের কড়া ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন রাখা বাধ্যতামূলক হবে এবং ওষুধের দোকানদারদেরও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি কড়া আইনি নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হবে।
















