দিনভর টানাপোড়েনের পর বৃহস্পতিবার সন্ধেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। মমতা শিবির বা ঋতব্রত শিবির কেউই আগামী উপনির্বাচনে সেই প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। আর এই খবর বাইরে আসতেই নিন্দার ঝড় দেশজুড়ে। বিজেপি বিরোধী দলগুলিই শুধু নয়, রাজনৈতিক দল হিসেবে সেভাবে আত্মপ্রকাশ না করা ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকেও এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কে সি ভেনুগোপাল তীব্র কটাক্ষ করে লেখেন, 'বিজেপির দ্বারা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক উপায়ে দল দখলের ঘটনার পরে AITC - র নাম ও প্রতীক কার্যত ফ্রিজ করে দিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার গভীর রাতে মোদিজিকে জন্মদিনের উপহার দিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যারা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন তাদেরই এখন নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় তাঁরই বিরুদ্ধে অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিজেপির হাতের পুতুল ছাড়া আর কিছুই নয়'। শিবসেনা, এনসিপি এর ক্ষেত্রে যা হয়েছিল এআইটিসির ক্ষেত্রেও ঠিক তাই করা হল বলে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেন ভেনুগোপাল এবং একই সঙ্গে জোড়াফুল প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
মমতার সঙ্গে বরাবরই ভালো সম্পর্ক সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের। এই ঘটনার পরে অখিলেশ লেখেন, 'আর বিশেষ কিছু বলার নেই শুধু একটাই প্রশ্ন রইল নির্বাচন কমিশনের কাছে, আমরা যে হলফনামাগুলো জমা দিয়েছিলাম, সেগুলো কি গৃহীত হয়েছে'? অর্থাৎ বিরোধীদের স্বর নির্বাচন কমিশন শুনছে না বলে কটাক্ষ করেছেন অখিলেশ।
সাম্প্রতিক কালে দিল্লি তথা দেশজুড়ে পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এর প্রতিবাদে আন্দোলন সংগঠিত করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। প্রধানত তাদের আন্দোলনের জেরেই পদত্যাগ করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে। সেই দল যদিও এখনও পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকশ করেনি। তবে মমতাপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে তারাও। দলের পক্ষ থেকে সৌরভ দাস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'ভারতের নির্বাচন কমিশন সরকারের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। এই কমিশনারদের জবাবদিহি করার সময় খুব দ্রুত ঘনিয়ে আসছে'। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে তৈরি করা প্রতীক কেড়ে নেওয়া মেনে নিতে পারছে না বিজেপি বিরোধী কোনও দলই।
















