দুই শিবিরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর কোনও পক্ষকেই জোড়াফুল প্রতীক দিল না নির্বাচন কমিশন। এমনকী অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) নামটাও ব্যবহার করতে পারবে না কোনও পক্ষই। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ঘিরে জটের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ, আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায় (ঋত-গোষ্ঠী)-কেউই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের সংরক্ষিত ‘ ঘাসের উপর জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। উপনির্বাচনে দুপক্ষকেই আলাদা নামে এবং কমিশনের নির্ধারিত মুক্ত প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়তে হবে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ১৪ পাতার অন্তর্বর্তী নির্দেশে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা নথি, দাবি ও পাল্টা দাবির ভিত্তিতে আপাতত এ কথা স্পষ্ট যে, তৃণমূলের মধ্যে দু’টি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন, অন্যটি অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন। উভয় পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করছে। ফলে নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত আদেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের পক্ষে এই বিরোধের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে দুই আসনে উপনির্বাচনের নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যে এই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতীক ও দলের নাম ব্যবহার নিয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল। সেই কারণেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের পছন্দমতো তিনটি সম্ভাব্য নাম এবং তিনটি মুক্ত প্রতীকের বিকল্প ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেবে। কমিশন সেই তালিকা থেকে একটি নাম এবং একটি প্রতীক অনুমোদন করবে, যা ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রার্থীরা চলতি উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে কমিশন লিখেছে, গত ২৩ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে চিঠি দিয়ে জাতীয় কার্যকরী সমিতির নতুন পদাধিকারীদের তালিকা জমা দেন। একই দিনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন, জাতীয় কার্যকরী সমিতির মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তী সমস্ত নিয়োগ সংবিধানবিরোধী। তাঁর দাবি, ২২ জুন বিশেষ অধিবেশনে অরূপ রায়কে জাতীয় কার্যকরী সমিতির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফায় নথি বিনিময়, লিখিত জবাব এবং কমিশনের সামনে শুনানি হয়।
আদেশে আলিপুরের দেওয়ানি আদালতের একাধিক অন্তর্বর্তী নির্দেশেরও উল্লেখ করেছে কমিশন। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, দলের সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনেরই রয়েছে।
কমিশনের নথি অনুযায়ী, রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দুই পক্ষই পৃথক পৃথক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে তাঁদের তৃণমূল প্রার্থী বলে দাবি করেছে। সেই পরিস্থিতিই প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
















