জন্মদিন বলে ছুটি নয়। বরং দেশের প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বৃহস্পতিবার বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। এদিন সকালে দিল্লির (Delhi) দ্বারকার যশোভূমিতে ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর ( SEMICON India 2026) সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই মঞ্চ থেকেই ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ৭৬তম জন্মদিনে বাংলাকে মোদির ‘অন্নপূর্ণা’ বার্তা, ফের উঠল ‘কাটমানি’ প্রসঙ্গ

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। বিজেপির তরফে যখন চলছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’, তখন সরকারি কর্মসূচিতে ব্যস্ত মোদি। তাঁর বক্তব্যে অবশ্য জন্মদিনের প্রসঙ্গের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ভারতের আগামী দিনের প্রযুক্তি ও অর্থনীতি। সেমিকন্ডাক্টরকে (Semiconductor) ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেই এবারের সেমিকন ইন্ডিয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আধুনিক ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে ব্যাটারি, উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রয়োজনীয় বিরল খনিজের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এই সরবরাহ ব্যবস্থায় চিনের (China) বড় প্রভাব রয়েছে। আমেরিকার (USA) সঙ্গে বাণিজ্যিক সংঘাতের আবহে চিন একাধিক বিরল খনিজের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ জারি করায় আন্তর্জাতিক বাজারেও সেই প্রভাব পড়েছে।

বিশ্বজুড়ে এআই-এর প্রসারের কারণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বিগত দু'দশকে বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর বাজারের বৃদ্ধি ২০ শতাংশের বেশি নথিভুক্ত হয়েছে এবং এই বৃদ্ধিতে এআই-এর চাহিদার বড় অবদান রয়েছে। আর তাই সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ১ লক্ষ পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দেবে ভারত সরকার।

আরও পড়ুন: হিটম্যান “Not good in Bed”! বিতর্কিত মন্তব্যে জড়ালেন ‘কন্ট্রোভার্সি ক্যুইন’ সোফিয়া

বক্তব্য রাখতে গিয়ে সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের প্রসঙ্গও টানেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দিল্লি ঘোষণাপত্রে বিভিন্ন দেশকে একসঙ্গে নিয়ে আসার সাফল্য বিশ্বমঞ্চে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাকে সামনে এনেছে। তাঁর কথায়, ভারতের প্রতি বিশ্বের আস্থা বাড়ছে এবং সেই আবহেই দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের পরিকাঠামো তৈরি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে সেমিকন ইন্ডিয়ার প্রথম পর্বে মূলত নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তব উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, ভারতে তৈরি চিপ ইতিমধ্যেই বিশ্বের বাজারে পৌঁছতে শুরু করেছে।

জন্মদিনের দিনেই সেই দাবির বাস্তব প্রতিফলনও দেখা গেল। মোহালির CDIL সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বাণিজ্যিক ভাবে চিপ উৎপাদনের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে গুজরাটের সেমিকন ওসাট কেন্দ্র থেকেও চিপ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। অর্থাৎ, নীতি ঘোষণার পর এবার উৎপাদনের কাজেও পা রাখল ভারতের সেমিকন্ডাক্টর অভিযান।
প্রযুক্তির এই দৌড়ে ভারত কতটা নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে, তার উত্তর দেবে আগামী দিনের উৎপাদন ও রপ্তানি। তবে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের কর্মসূচি থেকেই স্পষ্ট, সেমিকন্ডাক্টরকে দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র।