"পোস্টে তো কারও নাম লেখা নেই! তা সত্ত্বেও অভিযোগকারী কীভাবে দাবি করছেন যে ওই ছবিটি তাঁরই? আমি নিজেই কনফিউজড।" বারাসত থানায় এফআইআরের ভিত্তিতে হাজিরা দিয়ে চূড়ান্ত কটাক্ষ করলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Trinamool MLA and spokesperson Kunal Ghosh)। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) করা অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার হাজিরা দেন কুণাল।

কুণাল ঘোষ জানান, সমাজ মাধ্যমে পোস্টে তিনি ভিনগ্রহের একটি প্রাণীর ছবি ব্যবহার করেছিলেন, যা দেখতে অনেকটা শুয়োরের মতো। কিন্তু সেই পোস্টে কারও নাম, পদবী বা পরিচয় ছিল না। পুলিশকে তিনি স্পষ্ট জানান, "পোস্টে তো কারও নাম লেখা নেই! তা সত্ত্বেও অভিযোগকারী কীভাবে দাবি করছেন যে ওই ছবিটি তাঁরই? আমি নিজেই কনফিউজড।"  

জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন ভাষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংসদীয় শব্দকোষ ও বাংলা অভিধান সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। পোস্টে ব্যবহৃত 'দলবদলু', 'বেইমান', 'বিশ্বাসহন্তা' কিংবা 'প্রতারক'-এর মতো শব্দগুলি যে সম্পূর্ণ ব্যাকরণসম্মত ও অভিধানভুক্ত, তা তদন্তকারী অফিসারকে বুঝিয়ে দেন তিনি। এমনকি পোস্টে 'ঘোঁত ঘোঁত' শব্দ ব্যবহার নিয়ে পুলিশের প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করে কুণাল বলেন, "পুলিশের হাতে নাকি এত সময় যে 'ঘোঁত ঘোঁত' করা নিয়েও তদন্ত করতে হচ্ছে! অভিযোগকারী কি তবে ঘোঁত ঘোঁত করে নাকি?" পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে তিনি দাবি করেন, "এর আগে একটি চ্যানেলের টকশোতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে অগ্নিমিত্রা পাল ম্যাডাম নারদার চোর বলেছিল। এই কুনাল ঘোষ দাঁড়িয়ে উঠে তার প্রতিবাদ করেছিল। যার জন্য আমার সঙ্গে কোন ঝামেলা নেই অথচ কাকলি দিকে রক্ষা করতে গিয়ে মানহানের মামলা অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) আমার নামে করেছিলেন। সেই মামলা এখনো লড়তে হয়।" 

এছাড়াও তিনি বলেন, "আমি একজন সাংবাদিক এবং লেখক। এটা আমার স্টাইল যে আমি মাঝে মাঝে যে প্লটে উপন্যাস লিখছি সেটা হেঁয়ালি করে ফেসবুকে ছাড়ি। আমার উপন্যাসটা প্রকাশিত হলে দেখে নেবেন তার মধ্যে দলবদলু আছে কিনা, ঘুষখোর আছে কিনা। তার জন্য তো আমি কাউকে আজকে কৈফিয়ৎ দিতে পারবো না।"

আরও পড়ুন: পাখির পালক থেকে মরা আরশোলা: খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানায় খাবারে মিলছে ‘অখাদ্য’

সংবাদমাধ্যমের সামনেই নারদা কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন কুণাল ঘোষ। কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিশানা করে তিনি বলেন, "ক্যামেরার সামনে যিনি টাকা নিয়েছিলেন, সেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার এখনও কীভাবে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা জানতে এবার সিবিআই অফিসে যাব ও চিঠি দেব।" এবং বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের ঐতিহাসিক স্ক্রীনশটের তথ্য তিনি পুলিশকে জমা দিয়েছেন বলে জানান। এর জন্য যদি আবার তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয় তাহলে তিনি আবারও বারাসাত থানায় আসবেন এবং আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে হুঙ্কার দেন কুণাল।

অভিযোগকারীদের 'বিজেপির দালাল' ও 'শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী' আখ্যা দিয়ে কুণাল দাবি করেন, অকৃতজ্ঞ ও বেইমানেরা পুলিশের কেস খাইয়ে তাঁকে দমানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, "আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সৈনিক। বিজেপি বা তাদের বি-টিম কেউই আমাকে সামলাতে পারছে না বলেই এই রাজ্যতন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।"