রোজভ্যালি আমানতকারীদের জন্যে পুজোর আগেই সুখবর। পুজোর আগেই ৫০০ কোটি টাকা আমানতকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বৃহস্পতিবার আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের (Bikash Ranjan Bhattacharya) সাওয়ালের প্রেক্ষিতে আদালতকে আশ্বাস দিল এডিসি কমিটি। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চের (Division Bench) মন্তব্য, শুধু ৫০০ কোটি টাকা নয়, আগামী ৬ মাসের মধ্যে রোজভ্যালির সম্পত্তি অবিলম্বে বিক্রয় করে সমস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হবে।
ভারতের পূর্বাঞ্চল- বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ওড়িশা অসমের অন্যতম বৃহত্তম চিটফান্ড কেলেঙ্কারি রোজভ্যালি (Rose Valley) দুর্নীতি। গৌতম কুণ্ডুর (Goutam Kundu) নেতৃত্বাধীন 'রোজভ্যালি গ্রুপ' কম সময়ে বেশি লাভের লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। ইডি ও সিবিআই (ED-CBI)-এর তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১৭০০০ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলেছিল, যা সারদা কেলেঙ্কারির পরিমাণের চেয়ে বহুগুণে বেশি।
অভিযোগ, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা সেবির কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই বাজার থেকে টাকা তোলা হত। ভুয়ো ডিবেঞ্চার বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহ করত। মূলত গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রায় ৬০ লাখের বেশি মানুষ বেশি সুদের আশায় নিজেদের সারাজীবনের উপার্জিত সঞ্চয় রোজভ্যালি সংস্থায় বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
২০১৫ সালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীকালে তদন্তকারী সংস্থাগুলি সংস্থার একাধিক হোটেল, জমি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে। ভুক্তভোগীদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশিত কমিটি গঠিত হয়। তবে বহু প্রতারিত আমানতকারী আজও তাঁদের মূলধন ফেরত পাওয়ার আশায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিনের নির্দেশ আমানতকারীদের জন্য বড় স্বস্তি।











