নিঠারী (Nithari) হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলির (Surinder Koli) রহস্যমৃত্যু। জেল থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন হরিদ্বারে। কিন্তু সেই নতুন জীবনও দীর্ঘস্থায়ী হল না। শুক্রবার সকালে হরিদ্বারের একটি চায়ের দোকানের ভিতর থেকে উদ্ধার হল নিঠারী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলির ঝুলন্ত দেহ। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে হরিদ্বার পুলিশ (Haridwar Police)।

আরও পড়ুন: পঞ্জাবে ASI-কে গুলি করে খুন! দায় স্বীকার জঙ্গি সংগঠনের

হরিদ্বার পুলিশ সূত্রে খবর, হরিদ্বারের (Haridwar) লালমাতা মন্দিরের সামনে একটি চায়ের দোকান ভাড়া নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ব্যবসা করছিলেন সুরেন্দ্র। শুক্রবার সকালে স্থানীয় কয়েক জন দোকানের ভিতরে তাঁর দেহ দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা (Suicide) বলে মনে করা হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। দোকান থেকে কোনও আত্মহত্যার নোট (Suicide Note) পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়েছে। অলমোড়ায় থাকা সুরেন্দ্রর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

নিঠারী হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ২০০৫-০৬ সালে। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) নয়ডার নিঠারী এলাকায় একের পর এক শিশু, কিশোরী ও যুবতী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তের সূত্র ধরে ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী মণীন্দ্র সিংহ পান্ধেরের বাড়ির কাছ থেকে একাধিক কঙ্কাল ও দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।

এই মামলায় পান্ধেরের বাড়ির পরিচারক সুরেন্দ্র কোলির নাম উঠে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা দায়ের হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ১২টি মামলায় তিনি বেকসুর খালাস পান। একটি মামলায় সাজা হয়েছিল তাঁর। সেই মামলাতেও পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আইনি লড়াই চলে। ২০২৫ সালে শীর্ষ আদালত সুরেন্দ্র কোলিকে একাধিক মামলায় বেকসুর খালাস করে। একই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অন্য মামলাগুলিতে খালাস এবং একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার যৌক্তিকতা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শেষ মামলাতেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তাঁকে বেকসুর খালাস করে সুপ্রিম কোর্ট। জেল থেকে মুক্তি পান সুরেন্দ্র।