সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের নাসিকের ঘটনা। যেখানে দেখা যাচ্ছে, জেলার যুব শাখার কর্মকর্তা বিক্রম রান্ধাবে দুটি বস্তা থেকে বের করে নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরাজ ভামরের টেবিলের ওপর রাখছেন। এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। 

আরও পড়ুন: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন বৈঠক সেরেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে থেকে সরে দাঁড়ালেন মমতা-তৃণমূলের সঞ্চিতা

মূল ঘটনাটি কী ঘটেছিল? নাসিকের কোহিনুর নগর এবং সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে পথকুকুরের উপদ্রবে ভুগছিলেন। সম্প্রতি কুকুরদের আক্রমণে এলাকার কিছু শিশু গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার পুরসভাকে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ক্ষোভের চরম পর্যায়ে পৌঁছে, বিক্ষোভকারীরা পুরসভার স্বাস্থ্য কার্যালয়ে চড়াও হন। তারা সঙ্গে করে নিয়ে আসা কয়েকটি ছোট পথকুকুরের ছানা সরাসরি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (Health Officer) টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন যে, “আমরা গত ছয় মাস ধরে আপনাকে পথকুকুরের উপদ্রবের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছি, কিন্তু আপনি আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করেছেন।”

আরও পড়ুন: পঞ্জাবে ASI-কে গুলি করে খুন! দায় স্বীকার জঙ্গি সংগঠনের

অফিসের টেবিলে হঠাৎ কুকুরছানা ছেড়ে দেওয়ায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা টেবিল ঘিরে ধরে চিৎকার করতে থাকেন এবং এলাকায় অবিলম্বে কুকুরদের নির্বীজকরণ (Sterilization) ও উপদ্রব বন্ধের দাবি জানান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্যান্য কর্মীরা দ্রুত কুকুরছানাগুলোকে টেবিল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। 

আরও পড়ুন: ট্রাফিকের অভিযোগের জন্য চালু টোল ফ্রি নম্বর, পাহাড়ে বাড়তি নজর মুখ্যমন্ত্রীর

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট এবং যুক্তিসংগত। এলাকায় ছোট ছোট শিশুরা নিরাপদে রাস্তায় বের হতে পারছে না। পুরসভার হেল্পলাইনে বা কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা বোঝাতেই তারা এই অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন, যাতে প্রশাসন বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ টের পায়। 

আরও পড়ুন: পুজোর আগে ফের উচ্ছেদের নোটিশ! মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

নাসিক পুরসভার পক্ষ থেকে অবশ্য পরবর্তীতে জানানো হয়েছে যে, তারা আইন মেনে পথকুকুর নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে এবং এই ধরনের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হবে। তবে সরকারি দপ্তরে ঢুকে এই ধরনের নাটকীয় প্রতিবাদ শহরের প্রশাসনিক মহলে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।