কার্বন (Carbon) নিঃসরণের দায় উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর অন্যায় ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।  এমনই অভিযোগ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Prime Minister Narendra Modi)। শনিবার নয়াদিল্লির (New Delhi) বিজ্ঞান ভবনে পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, কার্বন নিঃসরণের দায় অনেক সময়ই উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর অন্যায্য ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিপুল জনসংখ্যার দেশ হয়েও ভারতে মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ২.০৭ শতাংশ। যা ভারতের মাথাপিছু কার্বন নির্গমন বিশ্ব গড়ের অর্ধেকেরও কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: বেআইনি বহুতল তদন্তে আজ ফের শহরে সিবিআই অভিযান

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change) গোটা বিশ্বের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এর দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সেইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় গত কয়েক বছরে ভারতের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মোদি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সৌরশক্তি-সহ পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে এগোনোর ক্ষেত্রে ভারতের উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন। 

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রসঙ্গও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁর দাবি, জি-২০ভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ, যে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই প্যারিস চুক্তির অধীনে নির্ধারিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। এর মধ্যে অজীবাশ্ম জ্বালানি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিষয় রয়েছে। পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সমস্যার মোকাবিলা কোনও একটি দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। উন্নত ও উন্নয়নশীল—সব দেশকেই নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী একযোগে পদক্ষেপ করতে হবে। 

জাতীয় পরিবেশ আদালতের আয়োজনে দু’দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টের বিচারপতি, সরকারি আধিকারিক এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ১৭টি দেশের বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধিদেরও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত নীতি, তার বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হচ্ছে।

ভারতের ভবিষ্যৎ জলবায়ু নীতির ক্ষেত্রেও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৬ সালের মার্চে মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ভারতের ২০৩১-৩৫ সালের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩৫ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৬০ শতাংশ অজীবাশ্ম জ্বালানি-ভিত্তিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে মোদির বার্তায় একদিকে যেমন ভারতের পরিবেশগত উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে, তেমনই জলবায়ু পরিবর্তনের দায় নির্ধারণে উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতি সমতার নীতির কথাও সামনে এসেছে।