কলকাতা জুড়ে একের পর এক বেআইনি বহুতল গড়ে উঠেছে। হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশের পর শনিবার শহরের একাধিক এলাকায় এই নির্মাণ দুর্নীতির সন্ধানে অভিযানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। শনিবার কলকাতার মোট ৪ জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিন রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই অন্তত পঞ্চাশটি বেআইনি বহুতল চিহ্নিত করেছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। আগামী ১৪ অক্টোবরে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআইকে। সেইমতো বৃহস্পতিবারের পর আজ ফের চলছে CBI অভিযান। 

আরও পড়ুন: পুরভোটের আগে SIR জট, কলকাতা-হাওড়ায় ঝুলে ২.২৯ লক্ষ মামলা

গত ১১ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার প্রেক্ষিতে সিবিআই তদন্তে নির্দেশ দেয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার কলকাতার রাজাবাজার ও নারকেলডাঙ্গা সংলগ্ন এলাকায় যান কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। পাশাপাশি বেলেঘাটা, মানিকতলা, রাজাবাজার, ক্যানাল ইস্ট রোড এলাকায় বেশ কয়েকটি বহু তার খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সিরিয়ায় তদন্তে দেখা গিয়েছে ক্যানাল ইস্ট রোডের একটি তিন তলা বাড়িতে বহুতলের বাইরের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও ভিতরে এসি লাগিয়ে বেশ কিছু বাসিন্দারা বসবাস করছেন। সেখান থেকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়।

শহরের বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আদালতে যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে তাতে কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। এইসব বহুতল নির্মাণের মধ্যে দিয়ে বেআইনিভাবে বিদেশি মুদ্রা বিনিয়োগ করা থেকে শুরু করে কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ রয়েছে। গোটা ঘটনায় প্রশ্নের মুখে কলকাতা পুরসভার নিষ্ক্রিয়তা। কোন নূন্যতম অনুমতি বা নথিপত্র ছাড়াই সরকারি জমি থিকা ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে বহু দল বানানো হয়েছে। এমনকি এই সমস্ত বাড়িগুলিতে বিরিয়ানিভাবে কল সেন্টার, অপরাধমূলক কাজকর্ম চালানোর চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে যা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই সিবিআইকে বিশ্বের তদন্তকারী দল গঠনের অনুমতি দিয়েছে। যদি প্রয়োজন মনে হয় তাহলে SIT গঠন করতে পারবে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ১৪ অক্টোবরের (বুধবার) মধ্যে সিবিআই প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট সিলবন্ধ কামে আদালতে জমা দেবে।