রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে চওড়া হচ্ছে গৈরিকীকরণ। এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) মতো রাজ্য তথা দেশের অন্যতম নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদানের প্রকল্পে গঠিত হলো প্রধানমন্ত্রীর নামে কমিটি। আগেই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় সরকার পিএম ঊষা নাম দিয়েছিল। এবার সেই নামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হল কমিটি। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় এসে 'পিএম ঊষা' নামে সম্মতি দিয়ে কেন্দ্রীয় সঙ্গে মউ (Mou) স্বাক্ষর করেছিল। এবার অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।শিক্ষকদের একাংশ নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে সহমত পোষণ করতে পারছেন না।
জানা গিয়েছে অস্থায়ী রেজিস্ট্রার দেবজিৎ দত্তকে আহ্বায়ক করে পিছন মোট ২৪ সদস্য নিয়ে 'পিএম ঊষা কমিটি' গঠন করা হয়েছে। আগামিতে কীভাবে কোন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুদান খরচ করা হবে এই কমিটি তা কর্মসমিতিতে পেশ করবে। তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রকল্পের নামে 'পিএম' নাম যুক্ত করা নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। যেহেতু কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় ভাগ করে আর্থিক অনুদান দেয় সেই ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রকল্পে শুধু প্রধানমন্ত্রীর নাম জুড়ে দেওয়া বলে জানিয়েছিল আগের সরকার। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কেন্দ্রের অনুদানের থেকে বঞ্চিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু নতুন যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তার বিরোধীতাতেও সরব হয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ। ইতিমধ্যেই তাঁরা উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই কাজ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউ টার্ন, মমতার কথায় রেজিনগের ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন রবিউল
ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল, বোর্ড অফ স্টাডিজকে উপেক্ষা করে এই ধরণের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শিক্ষকদের একাংশের দাবি কেন্দ্রের নির্দেশেই বলা আছে যে প্রজেক্ট মনিটরিং ইউনিটকে এড়িয়ে 'পিএম ঊষা কমিটি' গঠন সরাসরি আইন বিরুদ্ধ কাজ। এটা সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। এখন একথা ঠিক যে আর্থিক অভাবে ভুগতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য কেন্দ্রীয় অনুদান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আবার শিক্ষকদের বিরোধিতা করার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে নানা ধরণের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উপাচার্যের রয়েছে। তাই আইন না মানার অভিযোগ আদৌ ধোপে টিকবে বলে মনে করছে না কর্তৃপক্ষ।














