যত কাণ্ড রেজিনগরেই। আগামী ৬ অক্টোবর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে রেজিনগরের নাটকীয় পট পরিবর্তন। শনিবার সকাল থেকে দুপুর প্রতি মুহূর্তে বদলে গেল চিত্রনাট্য। শনিবার সকালে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফের ইউ টার্ন।
রেজিনগরের আসন্ন উপনির্বাচনে লড়াইয়ে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা দলের প্রার্থী। শুক্রবার নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতার দলের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয় রেজিনগর কেন্দ্র নিয়েও। সেই জল্পনায় সত্যি হয় শনিবার সকালে রবিউল আলম চৌধুরীর কথায়। ক্যামেরার সামনে ঘোষণা করেন ভোটের লড়াই থেকে সরে যাচ্ছেন। নতুন প্রতীক মানুষকে চেনানো কঠিন, তারপর কর্মীরাও মাঠে নামছেন না। এই প্রেক্ষাপটে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের কথা জানান রবিউল।
কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। রবিউলের কথা জানতে পেরেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। একাধিক রাজ্যস্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা হয় রবিউলের। এরপরই নিজের সিদ্ধান্ত বদলান। বেলডাঙ্গা থানায় গিয়ে তিনি নিরাপত্তার আবেদন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাসও পান মমতার দলের এই প্রার্থী।
এরপরই নিজের অফিসে ফিরে এসে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রবিউল বলেন, আমি আমার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছি। ভোটের লড়াই থেকে সরে যাচ্ছি না। যদি ১০ জন কর্মীও তাঁর সঙ্গে থাকেন লড়বেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই তিনি তার মতামত বদলেছেন বলে জানান। এমনকি আজ থেকেই প্রচারে নেবার কথা ঘোষণা করেন রেজিনগরের প্রার্থী।
রেজিনগরের ভোটে ঘাসফুল প্রতীকে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক ফ্রিজ করে। এর ফলে নতুন দল মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে তাঁকে ভোটে লড়তে হত। এই দলের নতুন প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়। শনিবার সকালে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার কথা জানেন রবিউল। তিনি বলেন অল্প সময়ের মধ্যে নতুন প্রতীক মানুষকে চেনানো সম্ভব নয়। এমনকি কর্মীরাও তাঁকে অনুরোধ করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছি।
মনে করা হয়েছিল ২৯ বছর পর রাজ্যে কোনও ভোটে মমতার প্রার্থী থাকবে না। আপাতত রবিউল মমতার সম্মান রাখলেন।
















