প্রতীক-বিতর্কে এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, জোড়াফুল প্রতীক কেড়ে নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূলের পক্ষ থেকে। মামলায় যুক্ত করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। আগামী সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, মমতাপন্থী তৃণমূল দলের নতুন নাম মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, দলের প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়। ঋতব্রত পন্থী তৃণমূলের নতুন নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস, প্রতীক খাম। শুক্রবার জানিয়ে দেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার বিকেলেই সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাবেন সেই বার্তাও দেন। চড়া সুরে জানিয়েছিলেন, দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার তিনি ছাড়বেন না। সেইমতোই শুক্রবার রাতের দিকে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী। আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটি শুনানি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। মমতা শিবির বা ঋতব্রত শিবির কেউই আগামী উপনির্বাচনে ঘাস ফুলের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।কড়া আপত্তি-সহ বৃহস্পতিবার রাত পৌনে বারোটায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনে তিনটি বিকল্প নাম ও প্রতীক জমা দিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল, ইমেলে জবাব দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। শুক্রবা্র বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানি্য়ে দেন তাঁর কড়া আপত্তি রয়েছে যেভাবে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে তা নিয়ে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীককে ফ্রিজ করে দেওয়ার নির্দেশকে বিরুদ্ধে আগেই প্রতিবাদে সরব হয়েছিল বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এবার এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন লোকসভা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
শুক্রবার সারাদিনে নাটকীয় পট পরিবর্তন ঘটে। মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার পরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে দলনেত্রী জানিয়ে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবেন তাঁরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ১৯ বছরের পুরনো একটি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ গ্রেফতার করার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও খবর নেই মিলনের। তাহলে কি রাতের অন্ধকারেই তাকে দিয়ে কোন কিছু লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে? আশঙ্কা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের।
















