মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার পরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে দলনেত্রী জানিয়ে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে (Nandigram By-Election) কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবেন তাঁরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ১৯ বছরের পুরনো একটি মামলায় কংগ্রেস (Congress) প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধেয় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, প্রতিদিন গণতন্ত্রের হত্যা হচ্ছে রাজ্যে-দেশে।

ইদানিংকালের মধ্যে রাজ্য রাজনীতির একটি অতি ঘটনাবহুল দিন শুক্রবার। বলা যায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত একের পর এক ঘটনার ঘনঘটা বাংলার রাজনৈতিক আকাশে। বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ঘিরে জটের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ, আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায় (ঋত-গোষ্ঠী)-কেউই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের সংরক্ষিত ‘ ঘাসের উপর জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। উপনির্বাচনে দুপক্ষকেই আলাদা নামে এবং কমিশনের নির্ধারিত মুক্ত প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়তে হবে। শুক্রবার বেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রস্তাবিত তিনটি নামের থেকে দলের নতুন নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক 'ফুটবল খেলোয়াড়'-এ অনুমোদন দেয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তার পরেই খবর আসে নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছেন নন্দীগ্রাম মমতা তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান। তার পরেই হলদিয়ায় মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন তিনি।

এরপর বিকেল চারটেয় কালীঘাট থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান, "নন্দীগ্রামে আমরা লড়ব না, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। তাতে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা হবে।" কিন্তু তারপরেও টুইস্ট বাকি ছিল। মমতার ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রেফতার হন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একটি খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছিল মিলনের। সেই মামলায় শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। হলদিয়া আদালতে হাজির করানো হতে পারে। 

এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্জে ওঠেন মমতা। ঘটনায় সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুলে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন,

"নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে আমাদের সমর্থনের কথা ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হল। গ্রেফতারের এই সময়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে এবং এটি বিজেপির সেই পরিচিত কৌশল—পুরোনো কোনও মামলাকে খুঁড়ে বের করা। কিন্তু ঠিক এই সময়েই কেন? ঠিক যখন আমরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলাম! বিজেপির প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি ও দমন-পীড়নের মধ্যে একটি স্পষ্ট ধরণ বা প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়। কারচুপি, ভোট লুঠ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির এই আঁতাঁত প্রতিদিন গণতন্ত্রকে হত্যা করছে।"

শনিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, হয়ত কংগ্রেস প্রার্থীও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবেন।