রাজ্যজুড়ে শুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজো উদযাপিত হল।পাড়ায় পাড়ায়, অফিস-কারখানায় খুশির আমেজ। রেলের জন্য এটা অন্যতম বড় এক উৎসব। তবে শুধু ওয়ার্ক শপ বা স্টেশন চত্বরে নয় পুজো হল একেবারে চলন্ত লোকাল ট্রেনে। শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালে বিশ্বকর্মা দেখে অবাক নতুন যাত্রীদের অনেকে। তবে বেশিরভাগ যাত্রীদাই বলছেন কুড়ি বছর ধরে এভাবেই পুজো হয়।
মণ্ডপে নয়, কারখানার চৌহদ্দিতেও নয়, দেবশিল্পীর আরাধনা হল ছুটন্ত ট্রেনের কামরায়। ডাউন শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালের প্রথম কামরার দ্বিতীয় গেটের নিত্যযাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভ্রাম্যমাণ বিশ্বকর্মাপুজো। এবার পা দিল কুড়িতম বর্ষে। দু দশক আগে মাত্র ৩০ জন নিত্যযাত্রী শুরু করেছিলেন এই উদ্যোগ। বর্তমানে সেই পরিবারের সদস্য বেড়ে হয়েছে ১৭৫। ওঁদের কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ হকার— পেশা আলাদা হলেও ট্রেনের কামরায় তাঁরা সবাই মিলে এক পরিবার। তাঁরা অফিস যাওয়া, কাজের টেনশন ভুলে এদিন মেতে ওঠেন বিশ্বকর্মার আরাধনায়।
সকাল থেকেই শান্তিপুর স্টেশনে শুরু হয় সাজসজ্জা। ফুলের মালা ও কলাগাছ দিয়ে সাজানো হয় কামরা। স্টেশন মাস্টার ও আরপিএফ কর্মীদের মিষ্টি বিতরণ করে শুরু হয় যাত্রা। ট্রেন চলতে শুরু করলেই কামরার ভিতরে চলে নৈবেদ্য সাজানো ও পুজোর প্রস্তুতি। রানাঘাটে পুরোহিত পুজোয় বসেন। শ্যামনগর পৌঁছনোর পর সম্পন্ন হয় আরাধনা। এরপর ব্যারাকপুর পর্যন্ত চলে প্রসাদ বিতরণ। শিয়ালদহ পৌঁছে যাত্রীরা কর্মস্থলের পথে বেরিয়ে গেলেও, বিশ্বকর্মা থেকে যান সেই কামরাতেই। রাতের শেষে কারশেডে প্রতিমা নামিয়ে পরেরদিন হবে বিসর্জন। অভিনব এই আয়োজনে সাধারণ যাত্রীরাও দারুণ উৎসাহিত।
ধানবাদ-হাওড়া কোলফিল্ড এক্সপ্রেসের ডেইলি প্যাসেঞ্জাররাও বিশ্বকর্মাপুজো মেতে ওঠেন। নিষ্ঠার সঙ্গে হয় পুজো। বছরের পর বছর একই ট্রেনে যাতায়াত করতে করতে সবাই হয়ে উঠেছেন এক পরিবার। তাঁরা কেউ আসানসোলের, কেউ বরাকরের বা ধানবাদের, কিম্বা দুর্গাপুরের। পুজোর এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। নিজেদের মধ্যে চাঁদা দেন। তাতেই চলে আয়োজন। কে কী করবেন, কীভাবে পুজোর ব্যবস্থা, কোথায় প্রতিমা বসবে সব আগে ঠিক করা হয়। পুজোর দিন নির্দিষ্ট কামরায় হয় পুজো।
















