পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের (Mamata Banerjee Government) আমলের তুলনায় চলতি খরিফ মরশুমে অর্ধেকেরও কম ধান সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের নয়া সরকার। প্রতি কুইন্টালে অতিরিক্ত ২০০ টাকা ইনসেনটিভ বা উৎসাহভাতা দেওয়ার কথা ঘটা করে ঘোষণা করা হলেও, ধান কেনার পরিমাণ এক ধাক্কায় নামিয়ে আনায় চিন্তার ভাঁজ বাংলার কৃষকদের (Fermer) কপালে।
খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুমে কৃষকদের কাছ থেকে প্রাথমিক ভাবে মাত্র ২৪ লক্ষ ৬৬ হাজার টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে সরকার। সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া (Ashok Kirtania) দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে জেলাস্তরে এই লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। অথচ, গত খরিফ মরশুমেও তৃণমূল সরকারের আমলে এই ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৭ লক্ষ টন! ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে পর্যন্ত ওই মরশুমে তৃণমূল সরকার প্রায় ৪৮ লক্ষ টন ধান কিনেছিল। পরে আরও ২ লক্ষ টন ধান কেনার নির্দেশ দিলেও, সরকার বদলে যাওয়ার পরে বাস্তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়নি। আর এবার একেবারে সরাসরি লক্ষ্যমাত্রাই অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দেওয়া হল।
ধান কেনা কমানোর নেপথ্যে নয়া সরকারের অবশ্য নিজস্ব গাণিতিক যুক্তি রয়েছে। খাদ্য দফতরের দাবি, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা রাজ্যের প্রায় ৬ কোটি রেশন গ্রাহকের জন্য বছরে ১৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টন চাল প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয় চালের নিখুঁত হিসাব কষেই নাকি এবারের ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা হল, বিভিন্ন জেলায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চাল (Rice) সংগ্রহ করে হাওড়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো চাল-ঘাটতির জেলাগুলিতে তা সরবরাহ করা হবে।
ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে চলতি বাজেটে সরকার কৃষকদের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) উপর কুইন্টাল প্রতি অতিরিক্ত ২০০ টাকা ইনসেনটিভ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
দুর্নীতি দমনের নামে ধান কেনাই কমিয়ে দেওয়াকে 'মাথা ব্যথায় মাথা কেটে ফেলা'র সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে। কুইন্টাল প্রতি ২০০ টাকা অতিরিক্ত পাওয়ার টোপ থাকলেও, সরকার যদি ধানই না কেনে, তবে সেই টাকা কার পকেটে আসবে? সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকের বেশি কমে যাওয়ার অর্থ, রাজ্যের লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক কৃষক ফসল ওঠার পরে সেই ফড়েদের কাছেই জলের দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হতে হবে-এমনটাই আশঙ্কা কৃষি মহলে।
















