অবশেষে খোঁজ মিলল নন্দীগ্রাম বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের। শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেফতারের পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এর ফলে উদ্বেগ তৈরি হয়। কলকাতা থেকে  প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সহ একাধিক নেতা রাতেই পূর্ব মেদিনীপুরে যান। শুক্রবার গভীর রাতে চণ্ডীপুর থানায় গিয়ে কংগ্রেস  নেতৃত্ব পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।


 জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের পর মিলনকে চণ্ডীপুর থানায় রাখা হয়েছে।  কিন্তু কেন পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হচ্ছিল না এই বিষয়ে প্রশ্নের উঠতে শুরু করে। সূত্রের খবর অনুসারে, বিক্ষোভ এড়াতেই মিলনকে গ্রেফতারের পরে চুপচাপ ছিল পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে সভাপতি শুভঙ্কর সরকার থানায় পৌঁছালে তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা হয় পুলিশের। তাঁকে  জানানো হয়,  চণ্ডীপুর থানাতেই আছেন মিলন। অন্যদিকে অভিযোগ মিলনের ভাই তার দাদা সম্পর্কে খোঁজ করলেও পুলিশ তাঁর সঙ্গে কোন সহযোগিতা করেননি। 


শুক্রবার সারাদিন নাটকীয় পট পরিবর্তন ঘটে। দুপুরে প্রতীক হারায় তৃণমূলের দুই শিবিরই। এরপরই মমতা পন্থী তৃণমূলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পরেই তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এর পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেন কিন্তু তারপরে পুরনো একটি খুনের মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করা হয়।


 কিন্তু গ্রেফতারের পর মিলনকে একটি হোটেলে রেখে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই  মিলনের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেন রাজ্য কংগ্রেসের নেতারা। রাতেই শুভঙ্কর সরকার যান পূর্ব মেদিনীপুরে। এদিকে গ্রেফতার হওয়া কংগ্রেস প্রার্থী মিলনকে আজ আদালতে পেশ করবে পুলিশ।


 এই গ্রেফতারের পর কংগ্রেস হাইকমান্ড স্বভাবতই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে একে গণতন্ত্রের হত্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন। শুধু তাই নয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার গভীর রাতেই বাংলায় পাঠানো হয়েছে কংগ্রেসের ইনচার্জ প্রকাশ জোশিকে । সবমিলিয়ে বাংলার আসন্ন উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে বিষয়টি এখন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদ করেন মমতা। ঘটনায় সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুলে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন,"নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে আমাদের সমর্থনের কথা ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হল। গ্রেফতারের এই সময়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে এবং এটি বিজেপির সেই পরিচিত কৌশল—পুরোনো কোনও মামলাকে খুঁড়ে বের করা। কিন্তু ঠিক এই সময়েই কেন? ঠিক যখন আমরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলাম! বিজেপির প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি ও দমন-পীড়নের মধ্যে একটি স্পষ্ট ধরণ বা প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়। কারচুপি, ভোট লুঠ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির এই আঁতাঁত প্রতিদিন গণতন্ত্রকে হত্যা করছে।"