যোগগুরু রামদেবের পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ লিমিটেডের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আয়কর সংক্রান্ত সাতটি মামলার নিষ্পত্তিতে আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালের (আইটিএটি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল দিল্লি হাইকোর্ট। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশকে সম্পূর্ণ ‘যুক্তিশূন্য’ আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি সেই রায় পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি দীনেশ মেহতা ও বিচারপতি রজনীশ কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রায় ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে কোনও যুক্তি, ব্যাখ্যা বা নীতিগত ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

আয়কর বিভাগের প্রধান কমিশনারের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এই মামলার শুনানি চলছিল। শুনানিপর্বে আদালতের নজরে আসে মারাত্মক এক পদ্ধতিগত অসঙ্গতি। নথিতে দেখা যায়, ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ৬ অগাস্ট চারটি আপিলের শুনানি শেষ করে রায় দেয় এবং পরবর্তীকালে ১৩ অগাস্ট বাকি তিনটি আপিলের শুনানি গ্রহণ ও রায় প্রদান করে। অথচ সম্পূর্ণ পৃথক দিনে দু’দফায় শুনানি হওয়া সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল সব ক’টি আপিলকে একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে একটি যৌথ বা সাধারণ রায় জারি করেছে। 

এই চরম গাফিলতি ও বিভ্রান্তিকর পদক্ষেপে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মারাত্মক পদ্ধতিগত ত্রুটি ছাড়াও এটি বোধগম্য নয় যে, কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন দিনে শুনানি হওয়া বিষয়গুলিকে মিলিয়ে একটি অভিন্ন নির্দেশ পাশ ও প্রকাশ করা সম্ভব হলো। হাইকোর্টের স্পষ্ট মন্তব্য, সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা বিতর্কিত রায়টি পাশ ও স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অপ্রয়োজনীয় তাড়াহুড়োর পরিচয় দিয়েছেন। এই ধরনের নির্দেশ আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলেই তা বাতিল করার নির্দেশ দেয় আদালত।