পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে কার্যত অস্বস্তিকর তথ্য পেশ করল নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া এক হলফনামায় কমিশন স্বীকার করেছে, ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্যের অ্যাপেলিট ট্রাইব্যুনালগুলিতে জমা পড়া আপিল আবেদনগুলির মধ্যে ৯৭ শতাংশেরও বেশি এখনও অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালগুলিতে মোট আবেদন জমা পড়েছিল ৩৮ লক্ষ ২০ হাজার ৬৮৩টি। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১ লক্ষ ২ হাজার ২৩১টি (প্রায় ২.৬৮ শতাংশ) আবেদনের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৩৭ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৫২টি আবেদনই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।
তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভোটার তালিকা থেকে অন্যায় ভাবে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে কতগুলি আবেদন জমা পড়েছে এবং নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে কতগুলি অভিযোগ জমা পড়েছে, তার পৃথক কোনও খতিয়ান কমিশন আদালতে পেশ করেনি। অথচ মামলাকারীদের তরফে তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের সূত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে, মোট আবেদনের ৮০ শতাংশেরও বেশি জমা দিয়েছে কোনও তৃতীয় পক্ষ, যেখানে অন্যের নাম তালিকায় ওঠাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নিজের বাদ পড়া নাম ফের তোলার জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা মেরেকেটে ২০ শতাংশের কাছাকাছি।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছে। এর আগে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের কাজকর্মের হালহকিকত জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত। ট্রাইব্যুনালকে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে না দিলেও কাজের অগ্রগতিতে নজর রাখার কথা জানিয়েছিল বেঞ্চ। এর পরেই বকেয়া ও নিষ্পত্তিকৃত আবেদনের সংখ্যা, বাদ পড়া বনাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা সংক্রান্ত পৃথক তথ্য এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদক্ষেপ নিয়ে কমিশনকে বিস্তারিত হলফনামা দিতে বলা হয়।
শুনানি চলাকালীন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আর্জি জানান, আগামী ডিসেম্বরে পুরভোটের কথা মাথায় রেখে কলকাতা ও হাওড়া জেলার আবেদনগুলিকে যেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আরটিআই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, অধিকাংশ মামলাই ভোটার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত। তাই যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের বক্তব্য আগে শোনা হোক। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র কলকাতা ও হাওড়াতেই বকেয়া আবেদনের সংখ্যা ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৬০টি। সেখানে এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫,৪৮৫টি। আড়াই মাসের মধ্যে এই বিশাল সংখ্যার আবেদন নিষ্পত্তি করা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুনানিতে বিচারপতি বাগচী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানান, নাম বাদ পড়া কোনও ব্যক্তির গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। তাই সেই সংক্রান্ত পৃথক তথ্য হাতে পেলে তাঁদের আবেদন আগে শোনার বিষয়ে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিতে পারে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন কি না, সে বিষয়েও কমিশনের অবস্থান জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত।
















