পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হল ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) মাওবাদী নেতা (Maoist Leader) ব্রিজেশ গাঞ্জু (Brijesh Ganju) ওরফে গোপাল সিংয়ের। রবিবার সকালে রামনগরের লঙ্কা ময়দান এলাকায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের (Uttar Pradesh Police) সন্ত্রাসদমন শাখা (Anti-Terrorism Squad)-র সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ব্রিজেশকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: পদ্মার ইলিশ রফতানি, আবার গুজরাতের ইলিশ আমদানি! বাংলাদেশের বাজারে কেন এই উলটপুরাণ?
এটিএসের দাবি, নিষিদ্ধ মাওবাদী শাখা সংগঠন তৃতীয় প্রস্তুতি কমিটি (টিপিসি)-র শীর্ষ নেতা ছিল ব্রিজেশ। ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার লওয়াংলং থানার লুটুর বাসিন্দা এই মাওবাদী নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তার সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরেই তল্লাশি চালাচ্ছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। তার মাথার দাম ২৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল ঝাড়খণ্ড সরকার। পাশাপাশি ব্রিজেশের খোঁজে ছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-ও। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে তার মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা।
রবিবার সকালে বারাণসীর রামনগরের লঙ্কা ময়দান এলাকায় ব্রিজেশকে দেখতে পায় পুলিশ। এটিএস সূত্রের দাবি, এক সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে মুঘলসরাইয়ের দিকে যাচ্ছিল ব্রিজেশ। পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করতেই ব্রিজেশ গুলি চালায় বলে অভিযোগ। এর পরই দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় গুলির লড়াই। পুলিশের পাল্টা গুলিতে আহত হয় ব্রিজেশ।
আরও পড়ুন: অসুস্থ ভাইজান! অনুষ্ঠান চলাকালীন শুয়ে পড়লেন সলমন, তারপর....
সংঘর্ষে এটিএসের ডেপুটি পুলিশ সুপার বিপিন রাই এবং হেড কনস্টেবল নিতেন্দ্র কৃষ্ণও গুলির আঘাত পান বলে জানা গিয়েছে। তবে দু’জনেই বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে থাকায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ব্রিজেশের মৃত্যু এমন এক সময়ে হল, যখন মাওবাদী দমনে একের পর এক অভিযান চলছে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে। গত বৃহস্পতিবারই পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাওবাদী নেতা আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডলকে। কলকাতা পুলিশের এসটিএফ তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। ৬৪ বছরের আকাশের মাথার দাম ঝাড়খণ্ডে ১ কোটি এবং ওড়িশায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই মাওবাদী নেতার গ্রেফতার ও এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় ফের নজরে এসেছে পূর্ব ভারতের মাওবাদী কার্যকলাপ।
















