যত দিন যাচ্ছে ততই শিক্ষার্থীদের উপর মোবাইলের কুপ্রভাব বাড়ছে, উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। রাজ্যে শিক্ষার হাল ফেরাতে শিক্ষক দিবসে (Teachers Day) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল আসক্তি নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। বাংলার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পূর্বতন সরকারের আমলের একাধিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেছে রাজ্য প্রশাসনকে। এবার পশ্চিমবঙ্গের বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে চাঙ্গা করতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল স্কুলের মতো প্রত্যেক জেলায় দুটি করে শিক্ষাক্ষেত্র তৈরি হবে। জহর নবোদয় বিদ্যালয়ের মতো এগুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করানো হবে। সেরা শিক্ষক, স্মার্টবোর্ড, আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব থাকবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপও চলবে বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পড়ুয়াদের মোবাইলের নেশা কাটানোও বাধ্যতামূলক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিজিটাল যুগে পড়ুয়ারা গভীর রাত পর্যন্ত অভিভাবকদের চোখ এড়িয়ে মোবাইল স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকছেন। এতে সময়মতো ঘুম না হওয়ার কারণে তাঁদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে চরম সমস্যা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বদল আনার জন্য সামাজিক ও প্রশাসনিক স্তরে সংস্কারের উপর জোর দেন শুভেন্দু। শনিবার নিউটাউনের 'বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান ২০২৬' অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গুজরাটে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোনে হাত দিতে দেওয়া হয় না। এই সংস্কার না করা হলে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষক দিবসের কোনও মানেই থাকবে না। তবে এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এটাও জানান যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন, এতে ভোট কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি যে সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচানোর জন্য যে কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সে কথাও মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিতে স্পষ্ট।
২০২৫ সালে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখতে এবং স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে গুজরাট সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করে। যদিও সেটা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এবার বাংলাও সেই পথে হাঁটবে কি? পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কথা থেকে এটা স্পষ্ট যে, পড়ুয়াদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে সামাজিক সচেতনতা এবং কড়া সিদ্ধান্ত অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এদিন শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর দেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক লাভ ক্ষতির অংক না কষে তিনি যে ছাত্র সমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবেন, সেটা একপ্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
















