দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় বহুতল ভেঙে( Delhi House Collapse) সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে রয়েছেন ১৬ বছরের অর্পিত জাজের। সন্তানকে হারানোর শোকের মধ্যেই ছেলের কর্নিয়া দান করেছে তার পরিবার। তাদের আশা, অর্পিতের দৃষ্টিতে একদিন পৃথিবী দেখবেন অন্য কোনও মানুষ।
মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) দেওয়াসের বাসিন্দা অর্পিত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Delhi University) অধীন আত্মা রাম সনাতন ধর্ম কলেজের বি.কম পড়ুয়া (B-Com Student)দ্বিতীয় বর্ষের ছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে (University Hostel) জায়গা না মেলায় সত্য নিকেতনের একটি পিজিতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন তিনি। রবিবার সকালে দিল্লি ( Delhi)-তে ফেরার পর দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ মায়ের সঙ্গে শেষ বার ফোনে কথা হয় অর্পিতের। তার ঠিক ঘণ্টাখানেক পর, দুপুর দেড়টা নাগাদ তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বহুতলটি (House Collapse)।
ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন অর্পিত-সহ একাধিক মানুষ। দুর্ঘটনার খবর টেলিভিশনে দেখেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁর বাবা-মা।অর্পিতের নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি।পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারেন, ধ্বংসস্তূপের নীচেই সম্ভবত চাপা পড়েছেন অর্পিত। খবর পেয়েই দিল্লির (Delhi) উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা। দিল্লিতে এসে ছেলের নিথর দেহ দেখার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন অর্পিতের মা।তাঁকে দিল্লি এইমসে ভর্তি করা হয়েছে।সন্তান হারানোর শোক সামলাতে না পেরে বারবার ছেলের কথা বলছেন তিনি।
তবে সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেও অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অর্পিতের পরিবার। তাঁর দু’টি কর্নিয়া দান করা হয়েছে।পরিবারের বক্তব্য, সন্তানকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁর চোখের মাধ্যমে যদি অন্য কোনও মানুষের জীবনে আলো ফিরে আসে, সেটাই হবে অর্পিতের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় উপায়।
দিল্লিতে বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, সত্য নিকেতনের ওই বাড়িতে নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের অভিযোগ। টানা বৃষ্টির জেরে বেসমেন্টে জল জমেছিল। তার মধ্যেই সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে সামনে এসেছে। বাড়িটির নির্মাণেও নিয়ম মানা হয়নি বলে পুরসভার তরফে দাবি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তকে রাজস্থানের বিওয়াড়ি থেকে আটক করা হয়েছে।
















