বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) স্যার সুন্দরলাল হাসপাতালের আইসিইউ-তে পদ্মশ্রী প্রাপক প্রবীণ প্রাক্তন অধ্যাপক টি কে লাহিড়ীকে নিগ্রহের অভিযোগ উঠল কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ৮৫ বছর বয়সি প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে মারধরের এই অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ২৭ জানুয়ারি থেকে হাসপাতালের সুপারস্পেশ্যালিটি ব্লকের পঞ্চম তলায় কার্ডিওথোরাসিক বিভাগের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অধ্যাপক লাহিড়ী। অভিযোগ, গত ২৯ অগস্ট রাতে একই বিভাগের চিকিৎসক অরবিন্দ পাণ্ডে কোনওরকম প্ররোচনা ছাড়াই প্রবীণ চিকিৎসকের উপর চড়াও হন এবং তাঁকে চড়-ঘুষি মারেন। এক নার্সিং সহকারী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে আঘাত আরও গুরুতর হতে পারত বলে পরিবারের দাবি।

মারধরের জেরে অধ্যাপকের মুখে ও চোখে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট হয়। সেই আঘাতের ছবি সম্বলিত একটি লিখিত অভিযোগপত্র গত ১ সেপ্টেম্বর বিএইচইউ-এর উপাচার্য ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে জমা দেন তাঁর এক আত্মীয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সময় আইসিইউ-তে উপস্থিত একাধিক কর্মী পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন।

যদিও অভিযুক্ত চিকিৎসক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রোগীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরিষ্কার করার কাজে বাধা দিয়ে অধ্যাপক লাহিড়ী হাত-পা ছুড়তে শুরু করেন এবং সেই ধস্তাধস্তির সময়েই অসাবধানতাবশত তাঁর মুখে আঘাত লাগে। কাউকে ইচ্ছাকৃত আঘাত করার অভিযোগ পুরোপুরি অসত্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফেও মারধরের অভিযোগ নস্যাৎ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক জানান, প্রবীণ অধ্যাপক দীর্ঘদিন ধরেই ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন। ফলে চিকিৎসা কিংবা পরিচর্যার সময় তিনি মাঝেমধ্যেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ঘটনার দিনও পরিচর্যার সময়েই অনভিপ্রেত ধস্তাধস্তি ঘটে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট এবং কার্ডিওথোরাসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সত্য নারায়ণ সাংখওয়ার ইতিমধ্যে আইসিইউ পরিদর্শনে যান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে প্রবীণ ও সম্মানীয় চিকিৎসকের নিগ্রহের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।