পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে ভারতে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে দেশ, আর ঠিক সেই কারণেই একের পর এক লাগু হওয়া কড়া নিয়ম শিথিল করতে শুরু করেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। উৎসবের মরশুমের আগে এবার মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিয়ে গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা কমিয়ে আনা হল। আর ৫৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে না, গ্রামীণ এলাকায় গ্যাস ডেলিভারি হওয়ার ২৫ দিনের মধ্যেই পরবর্তী সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করা যাবে। সোমবার কেন্দ্রের তরফে স্পষ্টভাবে এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরান-আমেরিকা অস্থির পরিস্থিতিতে হরমুজ নিয়ে সংকট বাড়তে থাকায় জ্বালানির জোগানে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পায় অপরিশোধিত তেলের দাম। ভারতের রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাঝে ভারতে জ্বালানি সমস্যা সামাল দিতে একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি হওয়ার পর অপর সিলিন্ডারের জন্য বুকিং এ নির্দিষ্ট কিছুটা সময়ের অন্তর রাখা হয়েছিল। গত মার্চে গ্রামীণ এলাকার জন্য গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা দেড় মাস এবং শহরাঞ্চলের জন্য ২৫ দিন ধার্য করেছিল মোদি সরকার। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, এলপিজি গ্যাসের বাড়তি মজুত এবং কালোবাজারি রুখতেই এই পদক্ষেপ। এবার গ্রামাঞ্চলের গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা কমিয়ে আনা হল।
শহর কলকাতায় ডোমেস্টিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের (১৪.২ কেজি) বর্তমান দাম ৯৬৮ টাকা। জুন মাসের শেষবার এই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৯ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২৮৮২ টাকা। চেন্নাই ও দিল্লিতে দাম হয়েছে যথাক্রমে ২৯০৬ ও ২৭৩৮ টাকা। শহরাঞ্চলে বাণিজ্যিক গ্যাস পেতে এখন আর খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। তবে গ্রামীণ এলাকায় ডোমেস্টিক গ্যাস বুকিং করার সময়সীমা কমে আসায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মধ্যবিত্তের।
















