দক্ষিণ দিল্লির সত্যনিকেতন এলাকায় বহুতল হস্টেল ধসে পড়ার ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন মূল অভিযুক্ত তথা ভবনের মালিক হরিরাম বনশল। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। তাঁর সন্ধানে লুক-আউট নোটিস জারির পাশাপাশি ১০টি বিশেষ দল গঠন করেছিল দিল্লি পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সোমবার রাজস্থানের ভিউয়াডি এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। এদিকে ‘হস্টেল ডেজ’ নামের ওই ভবনটি ধসে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭।
রবিবার আচমকাই ভেঙে পড়ে সত্যনিকেতনের ওই বহুতলটি। চোখের নিমেষে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গোটা বাড়িটি। এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তার মধ্যে সাতজনেরই মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও অনেকেই ধ্বংসাবশেষে আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকাজে গতি আনতে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ, দমকল এবং দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল। প্রাণের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে স্নিফার ডগও। আটকে পড়া এক ছাত্রের ভিডিও কলে সাহায্যের আর্জি গোটা দেশের নজর কেড়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি শহরের সমস্ত বেআইনি পাঁচতলা ভবন সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুরসভার পাঁচ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় আইনজীবী অনিকেত কুমার গুপ্ত নিহতদের পরিবারপিছু এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসন সময়মতো নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো যেত। দিল্লি পুরনিগমকে (এমসিডি) সর্বোচ্চ স্তরে তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভবনটির বৈধতা, নিয়ম মেনে নির্মাণ হয়েছিল কি না এবং আধিকারিকদের গাফিলতির প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে বলেছে আদালত। একই সঙ্গে শহরের সমস্ত পিজি আবাস পরিদর্শন করে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট আইন নিয়ে হলফনামা দিতে বলা হয়েছে পুরসভা ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে। কেন্দ্র, দিল্লি সরকার এবং মানবাধিকার কমিশনকেও নোটিস জারি করা হয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জমা জলের মধ্যেই বেসমেন্টে বিপজ্জনকভাবে সংস্কারের কাজ চালানো হচ্ছিল। দেওয়ালে গভীর ফাটল থাকা সত্ত্বেও সংস্কার বন্ধ রাখা হয়নি। এমনকি পড়ুয়াদের কাছ থেকে চড়া ভাড়া নেওয়া সত্ত্বেও সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে বিপদ ঘটলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না মর্মে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হত। সেই চরম গাফিলতির চরম মূল্য দিতে হল নিরীহ পড়ুয়াদের।
















