চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি বা জিডিপির হার ৭.৮ শতাংশ ছুঁয়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে যে পরিসংখ্যান পেশ করা হয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, পরিসংখ্যানে বিভ্রান্তি তৈরি করে দেশের সার্বিক অর্থনীতির যে ‘উজ্জ্বল’ ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করছে নরেন্দ্র মোদি সরকার, বাস্তবে তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তর ফারাক রয়েছে। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধীরা।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য সামনে আসার পর থেকেই অর্থনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ দাবি করেছেন, খাতায়-কলমে ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব তুলে ধরা হলেও তা আসলে পরিসংখ্যানগত রদবদলের ফল। তাঁর ব্যাখ্যামতে, গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধির হিসাবটি পরবর্তীতে সংশোধন করে নীচের দিকে নামিয়ে আনা হয়েছিল। ভিত্তিবছরের সেই পরিমাণের সংশোধন হওয়ায় চলতি ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধির হারটি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি দেখাচ্ছে। গর্গের গণনা অনুযায়ী, পূর্ববর্তী মূল হিসাবের নিরিখে বিচার করলে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় মাত্র ২.৬ শতাংশের কাছাকাছি। মূল্যবৃদ্ধির বাস্তব প্রভাবকে হিসাবে ধরলে এই বৃদ্ধি কার্যত নগণ্য হয়ে পড়ে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

প্রাক্তন শীর্ষ আমলার এই মতামত সামনে আসতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের বক্তব্য, প্রচারের মাধ্যমে অর্থনীতির সাময়িক স্বস্তির ছবি তুলে ধরা গেলেও দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যাগুলি চাপা রাখা যায় না। বিরোধীদের প্রশ্ন, অর্থনীতি যদি সত্যিই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, তবে কর্মসংস্থান তৈরিতে সেই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না কেন? একই সুর শোনা গিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনের কথাতেও। জিডিপি বৃদ্ধির হিসাব ও মাটিতে তার প্রকৃত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনিও। তাঁর মতে, বৃদ্ধির হার এত ইতিবাচক হলে বেসরকারি ক্ষেত্রে নতুন লগ্নি ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের গতি আরও বেশি দৃশ্যমান হওয়া উচিত ছিল।