ইসরোর ( ISRO) বেসরকারিকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের আবহে কর্মী ও আধিকারিকদের আশ্বস্ত করলেন সংস্থার চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন (Chairman V. Narayan)। সোমবার বেঙ্গালুরুতে ( Bengaluru) ‘স্পেস এক্সপো’ অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ৫৭ বছরের পুরনো ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাকে কোনও ভাবেই বেসরকারিকরণের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। বরং ভবিষ্যতে ইসরোর ( Isro) সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় সরকার আরও উদ্যোগী হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

নারায়ণন বলেন, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে বেসরকারি সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মহাকাশযান তৈরি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই কয়েকশো ভারতীয় সংস্থা ইসরোকে সহযোগিতা করছে। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ছ’বছর আগে মহাকাশ ক্ষেত্রে যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্যই হল বেসরকারি ক্ষেত্রকে উৎসাহ দেওয়া এবং দেশের মহাকাশ-বাস্তুতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা।

ইসরোর বেসরকারিকরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল কয়েক দিন আগেই। গত ৪ সেপ্টেম্বর (September) সংস্থার কর্মীদের ন’টি সংগঠন চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে চিঠি (Letter) দিয়ে বেসরকারিকরণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারের নীতি কী, তা-ও জানতে চাওয়া হয় ওই চিঠিতে।

এরপর রবিবার বিবৃতি দিয়ে যাবতীয় আশঙ্কা খারিজ করে ইসরো ( ISRO) । সংস্থার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, ইসরোর ( ISRO) বেসরকারিকরণ নিয়ে যে দাবি বা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লেও ইসরোর গুরুত্ব বা ভূমিকা কমবে না। বরং ভবিষ্যতের আরও জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ কর্মসূচিতে ইসরোকে বেশি করে মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দেবে এই সংস্কার।

ইসরোর বক্তব্য, মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দেশের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভবিষ্যতেও ইসরোই নেতৃত্ব দেবে। বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণকে বেসরকারিকরণ হিসেবে না দেখে দেশের মহাকাশ-বাস্তুতন্ত্রের সম্প্রসারণ হিসেবেই দেখা উচিত বলে জানিয়েছে সংস্থা।

এই একই বার্তা সম্প্রতি দিয়েছিলেন ‘ইন-স্পেস’-এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কা (IN-SPACe Chairman Pawan Goenka)। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইসরোর রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু হলেও তার অর্থ সংস্থার ভূমিকা কমে যাওয়া নয়। বরং জটিল মহাকাশ গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নে ইসরোকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই সাধারণ উপগ্রহ ও উৎক্ষেপণযান তৈরির মতো কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে।

ফলে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, চেয়ারম্যানের বক্তব্যে আপাতত তাতে কিছুটা জল ঢালার চেষ্টা করা হল। ইসরো কর্তৃপক্ষের বার্তা স্পষ্ট বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ বাড়লেও দেশের মহাকাশ গবেষণার নেতৃত্বে ইসরোই থাকবে।