পুজোয় বাঙালির পাতে কী পড়বে, আমিষ না নিরামিষ? রাজ্যজুড়ে আমিষ-নিরামিষের এই লড়াইয়ে আমিষকেই প্রাধান্য দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মন্ত্রীর সাফ কথা, ”আমি তো মাছ ছাড়া অন্য কিছু খাই না।” মঙ্গলবার ইকো পার্কে (Eco Park) প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে নিজের সেই চেনা মেজাজেই উত্তর দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী।
সম্প্রতি রাজ্যে এসেছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (Dhirendra Shashtri) ওরফে বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba)। হাওড়ার (Howrah) লিলুয়ায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে সম্মান জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ (Suvendu Adhikari) মন্ত্রিসভার সদস্যরা। আর সেই মঞ্চ থেকেই দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) আমিষ আহার ত্যাগ করার ডাক দিয়েছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। আমিষাশীদের ‘পাখণ্ডী’ বলেও অভিহিত করেন তিনি। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সেই বিতর্ক নিয়েই এবার মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, কে কী খাবেন, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। খাদ্যাভ্যাসে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) মন্তব্যকে সমর্থন করে মন্ত্রী বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ (Vivekananda) বলে গিয়েছেন, যত দিন দেশ থাকবে, তত দিন মা কালী পাঠা খাবেন এবং শিব ডমরু বাজাবেন। শাক্ত রীতিতে এ রাজ্যে দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই ঐতিহ্যের উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় দুর্গাপুজোয় ও কালীপুজোয় বলিপ্রথা রয়েছে। মা কালীর পাঁঠার মাংস প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করারও সুদীর্ঘ রীতি রয়েছে। তাই কে কী খাবেন, তা ব্যক্তির নিজস্ব পছন্দের বিষয়। এ নিয়ে কোনও জোরজুলুম বা বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে না।’
ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর আমিষ না খাওয়ার নিদানকে কটাক্ষ করে দিলীপ আরও বলেন, ”বাগেশ্বর বাবার দরবারে যে অগুনতি ভক্ত যান, তাঁরা কি একজনও মাছ-মাংস স্পর্শ করেন না? তিনি কি এটা নিশ্চিত করে বলতে পারবেন? মন্ত্রীর কথায়, শরীর ভালো রাখতেই নিরামিষ আহারের কথা বলেন সাধু-সন্তরা। কিন্তু এ রাজ্যের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ আলাদা।”
















