জলপাইগুড়ির ডিবিসি রোডে (DBC Road, Jalpaiguri) সোমবার রাতে সিপিএমের জেলা পার্টি অফিসকে (CPM District Party Office) ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল। দলীয় কার্যালয়ে হামলা, পাথর ছোড়া এবং পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই অশান্তিতে পার্টি অফিসের কাচ ভাঙার অভিযোগও করেছে সিপিএম। সিপিএমের পীযূষ মিশ্র (CPM's Piyush Mishra) বলেন, "সারা দেশে যে ঘটনা ঘটছে, তা আজ জলপাইগুড়িতেও হল। আমাদের পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ঢিল ছুড়ে কাচ ভাঙা হয়েছে ।" অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। আইসি মৌমন চক্রবর্তীকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার জেরে সিপিএম ও বিজেপি কর্মীদের (BJP Worker) মধ্যে বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কোতোয়ালি থানার আইসি মৌমন চক্রবর্তী (Kotwali Police Station IC Moumon Chakraborty) বলেন, “দুই দলের মধ্যে ঝামেলা চরমে উঠেছিল। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।”
এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ি আইন কলেজের সংঘর্ষ। সোমবার কলেজে এবিভিপি ও এসএফআই কর্মীদের মধ্যে গোলমাল বাধে। এবিভিপির অভিযোগ, তাদের দুই কর্মীকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। পরে বিজেপি ও এবিভিপি কর্মীরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান। এবিভিপির নগর সভাপতি বিনায়ক দাসের (ABVP City President Vinayak Das) কথায়, “আমাদের কার্যকর্তাদের এসএফআই পিটিয়েছে। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা কোনও মারধর করিনি। পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।”
এদিকে সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি পলেন ঘোষ (BJP Yuva Morcha President Polen Ghosh) বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আমরা বার বার প্রশাসনকে বলছিলাম আমাদের পার্টি অফিসের সামনে যাতে অশান্তি না হয়। এবিভিপির দুই ছাত্রকে এসএফআই পিটিয়ে মাথা ফাটিয়েছে। যারা দোষী তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে আমাদের কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।” এক দল অভিযোগের জেরে রাতভর চাপা উত্তেজনা বজায় ছিল ডিবিসি রোডে।
















