জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যে অভিন্ন শিক্ষাকাঠামো গড়ে তোলার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা আনতে এবং সমস্ত পড়ুয়াকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে ‘এক রাজ্য, এক শিক্ষা’ নীতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষা দফতরের অধীনে আনা এবং স্কুল স্তরের কিছু বৃত্তি প্রকল্পের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই প্রস্তাবকে ঘিরে প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা যেমন শুরু হয়েছে, তেমনই বিভিন্ন মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
প্রশাসনের একাংশের মতে, রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ ভাবা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, শিক্ষার ক্ষেত্রে পৃথক ব্যবস্থার পরিবর্তে অভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হলে তা শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে আরও বেশি উপযোগী করে তুলবে। সেই রূপরেখা অনুসারেই সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের নিয়ন্ত্রণাধীন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি উচ্চশিক্ষা দফতরের আওতায় আনার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রদত্ত কিছু বৃত্তির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখে মেধার বিকাশের নিরিখে সেগুলি পুনর্মূল্যায়নের কথাও বলা হয়েছে।
তবে সরকারের এই পরিকল্পনা সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট মহলে কিছু প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষাবিদদের একাংশের পর্যবেক্ষণ, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি ঐতিহ্য ও আইনি পরিচয় রয়েছে; সাধারণ প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে আনলে সেই স্বাতন্ত্র্য কীভাবে বজায় থাকবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, জুনিয়র পর্যায়ের বৃত্তি প্রকল্পে রদবদল হলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের পড়ুয়াদের ওপর তার কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও ভাবনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিচালন বিধি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে। বিরোধী শিবির এবং সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিদের একাংশের মতে, সমতার উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও তা যেন সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলির নিজস্ব অধিকার ও বিশেষ কাঠামোর পরিপন্থী না হয়। অন্যদিকে, সরকারি সূত্রের দাবি, কোনও নির্দিষ্ট ধারাকে ক্ষুণ্ণ করা প্রশাসনের উদ্দেশ্য নয়; বরং প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সমস্ত শিক্ষার্থীর সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করাই এই ভাবনার মূল লক্ষ্য। অভিন্ন শিক্ষানীতির এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকার আগামী দিনে কী রূপরেখা তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।
















