ধুলিয়ানে যুবক খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister and Police Minister Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, পরিবারের তরফে পুলিশকে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ বিষয়টিকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেয়নি। এই গাফিলতিকে কোনও ভাবেই হালকা করে দেখছে না রাজ্য। ঘটনায় জড়িত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ধুলিয়ান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই সুমন্ত দাস এবং শামসেরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সইফুল আলমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শামসেরগঞ্জ থানার আইসি সুব্রত ঘোষকে (Subrata Ghosh, IC of Shamsherganj Police Station) পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফরাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিনকেও (Farakka SDPO Sheikh Samsuddin) শাস্তিমূলক বদলির মুখে পড়তে হয়েছে।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিকল্পনা করেই ওই যুবককে ফোন করে নির্জন এলাকায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান। সেখানে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহ টুকরো করা হয় বলে অভিযোগ। পরে সেই দেহাংশ বস্তাবন্দি করে মোটরসাইকেলে চাপিয়ে বল্লালপুর ঘাটে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের গাফিলতির দায় শুধু নিচুতলার আধিকারিকদের উপরেই থামছে না। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এসপি সুরিন্দর সিংহকে শো-কজ (Surinder Singh, SP of Jangipur Police District) করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। একই সঙ্গে ঘটনার বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্ব আইজি জোনালের হাতে তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। খুনের পূর্ণাঙ্গ তদন্তও সিআইডির হাতে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের কোনও স্তরে দায়িত্বে অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না ধুলিয়ান-কাণ্ডে কার্যত সেই কড়া বার্তাই দিয়েছেন শুভেন্দু।