পুজোর আগেই রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক এবং বিধবা মহিলা ও দিব্যাঙ্গদের ভাতা বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার। নির্বাচনে ইস্তেহারে প্রতিশ্রুতি পূরণে রাজ্যের নাগরিকদের বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি করল বিজেপি সরকার। ১০০০ করে এতদিন এই ভাতার পরিমাণ ছিল। এবার থেকে সেই ভাতার পরিমাণ হল দেড় হাজার টাকা। সোমবার নবান্ন সভাঘরে উপভোক্তাদের হাতে বর্ধিত হাড়ে ভাতার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এই অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প মন্ত্রী তাপস রায় সহ একাধিক মন্ত্রী এবং সরকারের শীর্ষ স্তরের আমলারা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিন রাজ্যের মোট ৮২ লক্ষের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে ১৫০০ টাকা। আজকের মধ্যে সবার অ্যাকাউন্টে না পৌঁছালেও, আগামী এক দু'দিনের মধ্যেই এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে যাবে বলে জানান রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
অন্নপূর্ণা যোজনার পর এবার বার্ধক্য, বিধবাসহ প্রতিবন্ধীদের ভাতাও বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিজেপি সংকল্প পত্রের পূরণের আরও একটি ধাপ আমরা পেরোলাম। " মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ই রাজ্য কার্যত অর্থনৈতিক ভাবে দেউলিয়া অবস্থায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এখনও অবস্থা বেহাল রয়েছে। এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে কমপক্ষে ১ বছর লাগবে।"
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এদিন প্রায় মোট ৮২ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন প্রাপকের হাতে এই টাকা তুলে দেওয়া হল। এই প্রকল্পের জন্য মোট খরচ হবে ১৪৭৭১ কোটি টাকা। এর একটা বড় অংশ রাজ্য সরকারও দেবে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
একইসঙ্গে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিধবা মহিলাদের কাছে একটি আবেদনও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আমি অনুরোধ করব ২৫ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত স্বামীহীনা মহিলারা রয়েছেন তারা এই টাকাটা (বিধবা ভাতা) নেবেন না। অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা নিন এতে দেড় হাজারের বদলে তিন হাজার টাকা পাবেন। পাশাপাশি দিব্যাঙ্গ মহিলারা তারা অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি এই দেড় হাজার টাকা পাবেন সব মিলিয়ে তারা ৪৫০০ টাকা পাবেন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম প্রতিবন্ধী ভাতা আরও বৃদ্ধি করব। কিন্তু সরকারের আর্থিক অবস্থা এখন ভালো নয়। ভবিষ্যতে আর্থিক অবস্থা ভালো হলে আমরা অবশ্যই এই বিষয়টি বিবেচনা করব
নবান্নে উপভোক্তাদের হাতে বর্ধিত বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘পূর্বের সরকারের কারণে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তবু প্রতিশ্রুতি পূরণ করল সরকার। ভুয়ো কেউ ভাতা পাবেন না। শুধু যোগ্য উপভোক্তাদের হাতেই ভাতার টাকা দেওয়া হবে।’ সেই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন, “অযোগ্য কাউকে ভাতা দেওয়া হবে না।” অর্থাৎ নির্দিষ্ট সরকারি নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নতুন করে উপভোক্তাদের নির্বাচন করা হবে। আগামী নভেম্বর মাসে জনকল্যাণ শিবির হবে। সেই শিবিরেও নতুন করে বার্ধক্য ভাতার আবেদন করা যাবে।
















