চাঁচল, মালতীপুর ও রতুয়া বিধানসভা চত্বর থেকে কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় রবিবারের সাধারণ কর্মিসভাকে কার্যত রূপ দিয়েছিল এক বিশাল সমাবেশে। আর সেই জনপ্লাবনের মঞ্চ থেকেই দলত্যাগী সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে দলত্যাগীদের ইতিহাসের মিরজাফরের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, জোড়াফুল প্রতীকে জিতে যাঁরা রাতারাতি বিজেপির কোলে গিয়ে বসেছেন, ইতিহাসের পাতায় গদ্দার হিসেবেই তাঁদের নাম লেখা থাকবে। তাঁরা এখন কোন দলে আছেন, নিজেরাই তা স্পষ্ট করে বলতে পারেন না এবং আইনি নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়ে কালক্ষেপ করছেন।
চাঁচলের সাংগঠনিক মঞ্চ থেকে স্থানীয় বিধায়ককেও ‘৪২০’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কল্যাণ। তাঁর তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে দলত্যাগী বিধায়কের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, নিজের এলাকাতেই আজ তিনি একা ঢুকতে পারেন না; এলাকায় বেরোতে গেলেও প্রায় ৩০ জন পুলিশের পাহারা নিতে হচ্ছে। চাঁচলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মজিবুর রহমানের উদ্যোগে আয়োজিত এই জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন মালতীপুরের বিধায়ক আবদুর রহিম বক্সি, মালদহের প্রাক্তন জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা পরিষদের দুই সদস্য মর্জিনা খাতুন ও বন্দনা ঘোষ, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম, শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ফজলুল হক-সহ পঞ্চায়েত স্তরের বহু জনপ্রতিনিধি।
মঞ্চ থেকেই দলীয় ঐক্যের পাশাপাশি দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের রণকৌশল স্পষ্ট করে দেন সাংসদ। জানান, দলত্যাগী সাংসদদের সংসদীয় সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে লড়াই পুরোদমে চলবে। একই সঙ্গে বালিশপন্থী বিধায়কদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই প্রথম সারির ১২ জন দলত্যাগী বিধায়কের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন জানানো হচ্ছে। কল্যাণের দাবি, মুর্শিদাবাদ ও বাঁকুড়া জেলার দলীয় সংগঠনের কাজ অনেকটাই সুবিন্যস্ত করা গিয়েছে। এ বার নজর মালদহে। আগামী মাসে দক্ষিণ মালদহেও অনুরূপ সাংগঠনিক সমাবেশ হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে ৪২টি আসনেই বিজেপি বিরোধী শক্তি বিজয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শুধু কড়া রাজনৈতিক বার্তাই নয়, এই সমাবেশ থেকেই মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সামগ্রিক সংগঠন ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ারও সূচনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, জেলার ১৫টি ব্লকের নতুন সভাপতি নির্বাচন এবং জেলা কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গড়া হয়েছে। এই কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিধায়ক আবদুর রহিম বক্সি, বিধায়ক মতিবুর রহমান এবং চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেনকে। এই কমিটি প্রতিটি ব্লকে সরেজমিনে পৌঁছে তৃণমূল কর্মীদের মতামত গ্রহণ করবে। সেই অনুযায়ী খসড়া তালিকা অনুমোদনের জন্য রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হবে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সিলমোহর পেলেই চূড়ান্ত কমিটি প্রকাশ্যে আনা হবে।
















