পাহাড়ে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত। তার মধ্যেই উত্তর সিকিমের চুংথাং এলাকায় (Chungthang area, North Sikkim) নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগের পরিস্থিতি। ধসের কারণে চ্যাকুং নদীর (Chakung River) একটি অংশে জল আটকে গিয়ে অস্থায়ী জলাধারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীটি তিস্তায় (Teesta) এসে মেশায় তার প্রভাব সরাসরি পড়েছে তিস্তার জলপ্রবাহেও। ফলে পাহাড় থেকে সমতলের দিকে নদীর গতিপথ নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ এখন জমে থাকা জল। বৃষ্টি থামার লক্ষণ না থাকলে অস্থায়ীভাবে আটকে থাকা জল ক্রমশ বাড়তে পারে। কোনওভাবে ধসের কারণে বাধা ভেঙে গেলে একসঙ্গে বিপুল জল তিস্তায় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। সেই জল নীচের দিকে দ্রুত পৌঁছলে নদী লাগোয়া এলাকায় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই তিস্তাকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের নিম্ন অববাহিকাতেও আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নদীর কাছে না যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
চুংথাং (Chungthang) নামটি অবশ্য সিকিমের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে নতুন নয়। ২০২৩ সালের ভয়াবহ ধস ও হড়পা বানের সময় এই এলাকাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। জলের তোড়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সেই ঘটনার কয়েক বছর পর ফের একই অঞ্চলে নদী ও ধসকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সেখানে অস্থায়ীভাবে আটকে থাকা জল আচমকা বেরিয়ে গিয়ে ভোতেকোশী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বানের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়, এখনও অনেকে নিখোঁজ। সেই ঘটনার পর সিকিমের পাহাড়ি নদীগুলির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন ভূতত্ত্ববিদ ও গবেষকদের একাংশ। এবার চ্যাকুংয়ে জল আটকে যাওয়ায় সেই আশঙ্কাই নতুন করে সামনে এসেছে।
















