পুজোর কাউন্টডাউন শুরু। মণ্ডপের প্রস্তুতি, শিল্পীদের কাজ, প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততার মধ্যেই এ বার উদ্যোক্তাদের নজর আটকে সোমবার বিকেল ৪টের বৈঠকে। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে রাজ্যের বড় পুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। এই বছর বিজেপি সরকারের প্রথম দুর্গাপুজো। ফলে এবারের বৈঠক ঘিরে প্রত্যাশাও অন্য রকম।

সবচেয়ে বড় অপেক্ষা অনুদান নিয়ে। এত দিন পুজোর আগে সরকারের সঙ্গে বৈঠক মানেই অনুদান সংক্রান্ত ঘোষণা ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু সরকার বদলের পর সেই ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এখনও স্পষ্ট নয়। পুরনো নীতি বজায় থাকবে, নাকি নতুন কোনও কাঠামো তৈরি হবে বৈঠকে তার উত্তর মিলতে পারে বলেই মনে করছে পুজো মহল।

কোভিডের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়া চালু করেন। কারণ সেইসময় ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের পক্ষে চাঁদা দেওয়া সম্ভব ছিল না। সাধারণ মানুষদের রেহাই দিতে এবং পুজো উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে এই অনুদান চালু করেন। ধীরে ধীরে বাড়ে সেই অনুদানের পরিমাণ। এবার সেই অনুদান চালু থাকবে কিনা এবং কারা সেই অনুদান পাবে তাই নিয়ে নানা জল্পনা। 

তবে শুধু টাকার অঙ্ক নয়, পুজোকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু জল্পনাও উদ্যোক্তাদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে আলোচনা ছড়িয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নাম এই দাবির সঙ্গে জড়ালেও সংগঠনটি তা অস্বীকার করেছে। সরকারের তরফেও জানানো হয়েছে, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনও বিধিনিষেধ আনার পরিকল্পনা নেই।

তার পরেও প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে। কারণ, সরকারি ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত জল্পনা পুরোপুরি থামছে না। ফলে সোমের বৈঠকে অনুদানের পাশাপাশি পুজো ঘিরে কোনও নতুন নির্দেশ বা বিধিনিষেধের কথা বলা হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে উদ্যোক্তাদের।

প্রশাসনিক প্রস্তুতিও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুজোর কয়েক দিন শহর ও জেলায় বাড়তে চলা ভিড়, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দমকলের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব নিয়েই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে এই বিষয়গুলিও আলোচনায় আসার কথা।

তবে দিনের শেষে সোমের বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। কারণ, নতুন সরকারের আমলে বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে সরকারের প্রথম বড় বার্তা হতে চলেছে এই বৈঠক থেকেই। অনুদান নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, পুজো পরিচালনায় নতুন কোনও নির্দেশ আসে কি না এবং সাম্প্রতিক বিতর্কগুলিতে সরকারের অবস্থান কী সেই ঘোষণার অপেক্ষাতেই এখন পুজো উদ্যোক্তারা।