বোমাটা আগেই ফাটিয়েছিলেন এবিপি আনন্দের ‘যুক্তি-তক্ক’ অনুষ্ঠানে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি আরও জোরদার করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর (Snehashi Chakraborty) গ্রেফতারের দাবি তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর বাড়িতে তল্লাশির দাবি জানান কুণাল। 

রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের (TMC) ভাঙন ধরান দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহারা। অভিযোগ, বিভিন্ন মামলা থেকে বাঁচতে সেই শিবিরে নাম লেখান রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীও। এর আগে ‘যুক্তি-তক্ক’ অনুষ্ঠানে শিবির-বদলু প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিসকে কুণাল সরাসরি প্রশ্ন করেন, ”সিংটি কৃষি সমবায় সমিতি থেকে আপনি কোনও ঋণ নিয়ে ছিলেন? স্নেহাশিসদা, আপনি কি কৃষক?” লুকোনোর জায়গা পাচ্ছিলেন না প্রাক্তনমন্ত্রী। কুণালের বিস্ফোরক অভিযোগ, ওই সিংটি কৃষি সমবায় সমবায় সমিতিতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতো নেতারা পদাধিকার বলে ঋণ নিয়েছেন। আর পরিস্থিতির চাপে পড়ে ঋণ শোধ দিয়ে দুর্নীতি থেকে বাঁচাতেই শিবির বদলে এখন ভালো তৃণমূল। 

রবিবার বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ নিজের দলীয় কার্যালয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিসকে সরাসরি গ্রেফতারের দাবি তোলেন কুণাল। নিজের প্রভাব খাটিয়ে কৃষকের জন্য বরাদ্দ ঋণ নেওয়ার জন্য প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে দাবিতে সরব হন তৃণমূল মুখপাত্র। তিনি বলেন, "অবিলম্বে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস  চক্রবর্তীর গ্রেফতার দাবি করছি । পাশাপাশি তার সমস্ত সম্পত্তি ক্রোক করে, Attach করে আনুষঙ্গিক তদন্ত প্রয়োজন। রাজ্য সরকার মুখে দুর্নীতির কথা বলে নাটক করার জন্য কারুর কারুর বাড়িতে কোনও Committee বা Commission-কে পাঠাচ্ছে। খুব নির্দিষ্টভাবে বলছি স্নেহাশিস চক্রবর্তী রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বিধায়ক ছিলেন। তিনি কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট কৃষি সমবায়, যেখান থেকে অ কৃষক কারুর ঋণ পাওয়ারই কথা নয়। সেখানে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট অভিযোগ স্নেহাশিস চক্রবর্তী পঁচাশি লক্ষ টাকা তিনি নিয়েছেন এবং তাঁর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নামে আরও দশ লক্ষ টাকা শুধু এই কৃষি সমবায় থেকে ঢুকেছিল।"

 কুণালের সাফ কথা, "যেখানে অকৃষক কারও ঋণ পাওয়ার কথা নয়। সেখানে ৮৫ লক্ষ টাকা ঋণ কৃষি সমবায় থেকে ঢুকেছিল প্রাক্তন মন্ত্রী অ্যাকাউন্টে।" টাকা নেওয়ার কথা অবশ্য আগের দিন টিভির অনুষ্ঠানে সর্বসমক্ষে স্বীকার করে নিয়েছেন স্নেহাশিস।

এরপরে আরও বিস্ফোরক তথ্য দেন কুণাল ঘোষ। প্রশ্ন তোলেন,
স্নেহাশিস যদি টাকা ফেরত দিয়ে থাকেন তাহলে কীভাবে দিয়েছেন? 
তাঁর হয়ে এলাকার কোনও নেতা মলয় খাঁ এই টাকা শোধ দিতে গিয়েছিলেন কি না! 
টাকা চেক না ব্যাংক ট্রান্সফারে হয়েছে? 
নগদে হলে টাকার সোর্স কি?
স্বপন পাত্র নামে ওই সমবায়ের ম্যানেজার অনৈতিক কাজের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। 
স্নেহাশিস চক্রবর্তী আগাম জামিনের আবেদন করেছেন কি করেননি? 
কৃষকদের জন্য লনের টাকা মন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে গিয়েছে কি করে?

 বেলেঘাটার বিধায়ক জানান, স্থানীয় অভিযোগ পেয়েছি। আগে জানতে পারিনি। তার মানে Justice Delayed হতে পারে Justice Denied যেন না হয়।