আসন্ন দুর্গাপুজোর আগে পুজোর শপিং বা প্যান্ডেল হপিংয়ের থেকেও বাঙালির চিন্তা ফতোয়া ঘিরে। নিত্যদিন খাওয়াদাওয়া থেকে থিমের পুজো- সব কিছু নিয়েই ফতোয়া দিয়ে চলেছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। যেখানে দুর্গোৎসব নয়, দুর্গাপুজো করার নির্দেশ দিচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব, সেখানেই তীব্র সমালোচনার মুখে সরকারি বিজ্ঞাপন। এক সুরে বিষয়টির সমালোচনা করেছে তৃণমূল (TMC), সিপিএম (CPIM)। 

দুর্গাপুজো সুষ্ঠুভাবে করতে সোমবারই বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে সংবাদপত্রের প্রথম পাতা জুড়ে। বিজ্ঞাপনের ভাষায় যাকে বলে ফুলপেজ বিজ্ঞাপন। এতটা সব ঠিক ছিল। কিন্তু গোল বেঁধেছে সেখানে প্রকাশিত দুর্গা প্রতিমার হাত নিয়ে। সেখানে তিনি দশভূজা নন, এগারোভূজা! পুরাণ অনুযায়ী, দুর্গা দশভুজা। তাঁর ১০টি হাতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব সহ বিভিন্ন দেবতাদের দেওয়া ১০টি বিশেষ অস্ত্র থাকে, যা দিয়ে তিনি মহিষাসুর বধ করেছিলেন। আসলে এগুলি প্রতীক হল, পৃথিবীর ১০টি দিক রক্ষা করার। শাস্ত্রে দেবীর ১১টি হাতের কোনও উল্লেখ বা তাৎপর্য নেই। ফলে এই ছবি নিয়ে তীব্র সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কী করে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফ থেকে ওই রকম ছবি ছাপা হতে পারে!

গেরুয়া বাহিনীর ফতোয়ার উল্লেখ করে তীব্র কটাক্ষ করান তৃণমূল বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি লেখেন, “থিম হবে না, বিকৃত হবে না.. গাদাখানেক হুমকি ও আচরণবিধি তো দেখলাম। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে মায়ের 11টি হাত হল কী করে? দশভূজা 2026 -এ একাদশভূজা হয়ে গেলেন কোন শাস্ত্র অনুসারে?”

রাজ্য সরকারকে খোঁচা দিয়ে সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ (Shatarup Ghosh) নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে লেখেন, ”একটা চমৎকার সরকারী বিজ্ঞাপন! এখানে মা দুর্গার এগারোটা হাত। দেবতাদের পক্ষ থেকে দুর্গাকে দশ হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল অসুর বধের জন্য। আর বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে ঠাকুরকে একটা এক্সট্রা হাত দেওয়া হয়েছে, পুজোর সময় বাঙালির ওপর কেউ নিরামিষ খাওয়ার ফতোয়া জারি করতে এলে তাকে কানের গোড়ায় থাবড়া মেরে প্যাণ্ডেল এবং বাঙলা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য।” বামনেতার পোস্টেও বিজেপির ফতোয়ার উল্লেখ। 

এই তীব্র কটাক্ষ-সমালোচনার জবাবে সরকারি তরফে এখনও কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর- যার মন্ত্রী খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু- তার তরফ থেকে এর কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না সেটাই দেখার।