গেরুয়া রঙের ঐতিহ্য ও তার সামাজিক-সাংস্কৃতিক তাৎপর্য নতুন করে রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি এই রংকে জড়িয়ে ঘটা নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও বিতর্কের আবহে জনমানসে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই আগামী বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর রাজপথে নামছেন তিনি। গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত আয়োজিত হবে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’। সাধারণ মানুষকে এই পদযাত্রায় শামিল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার প্রকাশ্যে আসা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেল ৩টেয় গোলপার্ক থেকে এই মিছিলের সূচনা হবে, যার সমাপ্তি ঘটবে যাদবপুরে। সরকারি ও দলীয় সূত্রে দাবি, গেরুয়া স্রেফ একটি রাজনৈতিক বা দৃশ্যমান রং নয়, তা ত্যাগ, সেবা এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, গেরুয়াকে ঢাল করে কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। দিন কয়েক আগে একটি সংবাদপত্রে ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধের প্রয়োগ নিয়েও তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, এমন শব্দবন্ধের মাধ্যমে এক মহান প্রতীককে জনসমক্ষে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতেই এই সম্মান যাত্রা।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই যাত্রার ভৌগোলিক গতিপথ কেবল রঙের মহিমা প্রচারেই সীমাবদ্ধ নয়। গোলপার্ক থেকে শুরু করে যাদবপুরে মিছিল শেষ করার পেছনে কাজ করছে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমীকরণ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ পরিসরের বিরুদ্ধে আগেই ‘রাষ্ট্রবাদ’ প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবারই ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির স্লোগান মুছে গেরুয়াপন্থী ছাত্রদের রাষ্ট্রবাদী স্লোগান লেখার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দোরগোড়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর এই পদযাত্রাকে যাদবপুরের চত্বরে রাষ্ট্রবাদী আধিপত্য কায়েম করার স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
















