তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Trinamool's All India General Secretary Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের ঘটনায় এবার রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েই কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করাল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (Justice Saugata Bhattacharyya) সাফ বার্তা, আদালতের অনুমতি ছাড়া নতুন করে এফআইআর করার প্রবণতা বন্ধ না হলে কড়া নির্দেশ দিতে হতে পারে। তাঁর কথায়, “বাধ্য হব নির্দেশ দিতে, নতুন করে কোনও FIR করবেন না আদালতের আদেশ ছাড়া।” একই সঙ্গে তিনি জানান, “অন্তত তিনটে মামলা দেখেছি কোনও ভিত্তি নেই।”
সেবাশ্রয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিজেপির নেতা অভিজিৎ দাসের (ববি) (Abhijit Das (Bobby)) দায়ের করা অভিযোগের শুনানিতে মূলত চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি ওঠে। রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, শিবিরে ব্যবহৃত বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না এবং ওষুধ নিয়েও পদক্ষেপ করেছে ড্রাগ কন্ট্রোল (Drug Control)। কিন্তু আদালত জানতে চায়, যাঁরা ওই শিবিরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ চিকিৎসা পরিষেবার গাফিলতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন কি না। বিচারপতির প্রশ্ন, “এই নিয়ে যদি কোনও অভিযোগ ক্লিনিক্যাল কাউন্সিলের (Clinical Council) কাছে করেছেন, তার নথি দেখান আমায়।”
রাজ্যের যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়। চিকিৎসকরা যুক্ত থাকলে তাঁদের ক্ষেত্রেও আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়ে বিচারপতি বলেন, “এনাফ ইজ এনাফ। চিকিৎসকও জড়িত থাকলে আইন অনুসারে তাঁকেও রক্ষাকবচ দিতে হবে। এটা বড়জোর চিকিৎসার গাফিলতি হতে পারে।” একই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও শুনানিতে উঠে আসে। বিচারপতির আরও মন্তব্য, “একই ব্যক্তি যিনি নিজে হেরেছেন তিনি অভিযোগ করছেন।” যদিও অভিযোগকারীর আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, নির্বাচনে পরাজিত হওয়া মানেই অভিযোগ জানানোর অধিকার চলে যাওয়া নয়।
শেষ পর্যন্ত সেবাশ্রয় সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করার নির্দেশই বহাল রাখল আদালত। তদন্ত চালাতে বাধা নেই, তবে তদন্তে অভিষেককে সহযোগিতা করতে হবে। পরবর্তী শুনানি ২৩ নভেম্বর। আদালতের এ দিনের অবস্থান থেকে স্পষ্ট, রাজনৈতিক অভিযোগকে ভিত্তি করে পুলিশ বারবার এফআইআর করবে আর পরে তদন্তের নামে তা টেনে নিয়ে যাবে এই পদ্ধতি নিয়ে আর নির্বিকার থাকতে চাইছে না হাই কোর্ট। ফলে অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়েই তৈরি হল বড় প্রশ্ন।
















